নতুন বছরের শুরুতেই রাজ্য রাজনীতির আকাশে মেঘ ঘনাল হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তল্লাশি ঘিরে যে রাজ্যের শাসক দলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কেবল কোর্টে সীমাবদ্ধ থাকেনি তা গড়িয়ে রাজপথে নেমে গেল।
মূলত আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার পথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার সকালে ইডি অভিযান শুরু করলে সেই খবর পাওয়া মাত্রই প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং পরে আইপ্যাক দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে কিছু নথি নিয়ে বেরোনোর পর ইডির তরফে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ইডির তরফে জানানো হয় তাঁদের তদন্তে বাঁধা দিয়ে একাধিক ফাইল সরিয়ে নিয়ে আসে মুখ্যমন্ত্রী। এরপরে ইডি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন কলকাতা হাই কোর্টে। ইডির পাশাপাশি রাজ্য সরকার, তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রতীক জৈনের পরিবারের তরফেও আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে। যদিও আজ এই মামলার রায় বিচারকার্য শুরু হবার কথা হলেও অতিরিক্ত হট্টগোল এর জন্য বিচারপতি তা করতে পারেননি।
এই আবহেই শুক্রবার বিকেল তিনটে নাগাদ যাদবপুর থেকে মিছিল শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। মিছিলে তাঁর সঙ্গে পা মেলান তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ থেকে শুরু করে টলিউডের তারকা নেতারা ও সাধারণ মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর এক পাশে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিনেতা দেব, অন্য পাশে বিধায়ক অভিনেতা সোহম। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও।
শুক্রবারের মিছিল শুরুর আগে যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লির বঞ্চনা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেই প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এছাড়াও এদিন মূখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘যাদবপুরের মাটি লড়াইয়ের মাটি। উদ্বাস্তুদের মাটি।’ বিজেপি ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র রাজপথই প্রতিবাদের মূল।

