ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের। এ দিন বিক্ষোভের চাপে স্বাস্থ্য ভবনের প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভিতরে প্রবেশে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে মাত্র চারজন প্রতিনিধিকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হলেও, আশা কর্মীরা হেলথ সেক্রেটারির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের দাবিতে অনড় থাকেন।
জানা গিয়েছে, আজ সকাল থেকে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও কর্মসূচি করেন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়ন। সকাল থেকে ৮ দফা দাবিকে সামনে রেখে লাগাতার বিক্ষোভ মিছিল করেন রাজ্যের আশা কর্মীরা।
আশা কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দাবি করার কথা তুলে ধরা হলেও তা বাস্তবায়ন না করায় আশা কর্মীরা বেতন সহ বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও তাদের দাবি ন্যূনতম মাসিক ভাতা ১৫ হাজার টাকা করতে হবে। পাশাপাশি কর্মরত অবস্থায় কোনও আশা কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে সরকারি তরফে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়াও দীর্ঘদিনের বকেয়া বিভিন্ন ভাতা ও ইনসেন্টিভ অবিলম্বে মেটানোর দাবিতে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন আশাকর্মীরা আজ তা ১৬ দিনে পড়ল।
বছরের প্রতিটি দিন, দিনে–রাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে যে কোনও পরিস্থিতিতে যে কোনো সময়ে পরিষেবা দিয়ে যেতে হয় আশা কর্মীদের। গর্ভবতী মা থেকে সদ্যোজাত শিশুর যত্ন ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতেই রাজ্যজুড়ে মাঠে নেমে কাজ করে চলেছেন আশা কর্মীরা।
অপরদিকে কোথাও অনুষ্ঠান থেকে শুরু সবখানেই যেতে হচ্ছে আশা কর্মীদের দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে কাজের পরিমাণ অথচ মাসের শেষে বেতন মিলে মাত্র ৫,২৫০ টাকা। এছাড়াও দীর্ঘদিনের বকেয়া বিভিন্ন ভাতা ও ইনসেন্টিভ অবিলম্বে তা মেটানোর দাবি করে আসছিলেন। এছাড়া বকেয়া ইন্সেন্টিভের টাকা গত এক বছর যাবত ঠিকমত না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আশাকর্মীরা।
এ দিন স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ভাতা নয়, বেতন চাই স্লোগানে মুখরিত আশা কর্মীরা। দাবি না মানলে বড় আন্দোলনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবিষয়ে কোনোরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

