মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের হেনস্থা ও জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। মোফাক্কেরুল ইসলাম কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী এবং রাজনৈতিকভাবে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর সাথে যুক্ত।
ঘটনার সূত্রপাত মূলত নির্বাচন কমিশনের SIR (Special Intensive Revision) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে । মালদহের সুজাপুর ও কালিয়াচক এলাকায় এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ‘নাম বাদ‘ যাওয়ার প্রতিবাদেই গত ১ এপ্রিল থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষের নাগরিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে ।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে গত বুধবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভে বসেন। এই ঘটনার জেরে অফিসের ভেতরেই সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক দীর্ঘ সময় বন্দি হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে স্থানীয় পুলিশ এবং পরে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটকে পড়া আধিকারিকদের বের করে আনার সময় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়।
এই ঘটনায় মোফাক্কেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি উসকানিমূলক ভাষণ দিয়ে জনতাকে উত্তেজিত করার অভিযোগ উঠেছে । পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অবরোধ ও বিচারকদের ঘিরে ধরার পেছনে তার সক্রিয় প্ররোচনা ছিল।
কালিয়াচকের এই তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মোফাক্কেরুল ইসলামসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে ISF নেতা শাহজাহান কাদরিও রয়েছেন বলে জানা গেছে। জানা গেছে, মোফাক্কেরুল ইসলামকে বর্তমানে মালদহ জেলা আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

