দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। দক্ষিণ ভারতের রাজ্য ‘কেরালা’ রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ করার ঐতিহাসিক প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মালয়ালম ভাষার আবেগ এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ইংরেজি উচ্চারণের প্রভাব কাটিয়ে নিজস্ব পরিচিতি লাভ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৪ জুন কেরালা বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাস করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সেই সময় জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ১৯৫৬ সালে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠনের সময় থেকেই মালয়ালম ভাষী মানুষের কাছে এই ভূমি ‘কেরালম’ নামে পরিচিত। কিন্তু সংবিধানের প্রথম তফসিলে রাজ্যের নাম ‘কেরালা’ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। এই ভাষাগত অসঙ্গতি দূর করতেই ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দু’দফায় প্রস্তাব পাস করে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের পরামর্শ মেনে দ্বিতীয়বার কিছু প্রযুক্তিগত সংশোধনীর পর প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছিল।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী কেরালা (নাম পরিবর্তন) বিল, ২০২৬ বিলটি কেরালার রাজ্য বিধানসভায় মতামত জানানোর জন্য পাঠাবেন। যদিও রাজ্য বিধানসভা আগেই নাম পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, তবুও এটি একটি আবশ্যিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাই রাষ্ট্রপতির সুপারিশ নিয়ে বিলটি সংসদের উভয় কক্ষে উত্থাপন করা হবে।
অপরদিকে, সংসদে বিলটি পাস হলে সংবিধানের প্রথম তফসিল সংশোধন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেরালম’ নামটি কার্যকর হবে। একইসঙ্গে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত সব ভাষাতেও এই নাম স্বীকৃত পাবে।

