Lok Sabha Passes Waqf (Amendment) Bill: লোকসভায় পাস ওয়াকফ সংশোধনী বিল, আজ উঠবে রাজ্যসভায়, কি আছে এই বিলে?

Ealiash Rahaman
google_news
সব খবর মোবাইলে পেতে ফলো করুন গুগুল নিউজ

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি বুধবার লোকসভায় পেশ করল ওয়াক্‌ফ (সংশোধনী) বিল। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি পেশ করে বলেন, দেশ ও পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই সরকার সংশোধিত ওয়াক্‌ফ বিল পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল, ২০২৫ পাস হয়েছে। ভোটিং প্রক্রিয়া শেষে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা জানান, বিলটির পক্ষে ২৮৮টি এবং বিপক্ষে ২৩২টি ভোট পড়েছে। এখন এটি আজ ৩ এপ্রিল রাজ্যসভায় পেশ করা হবে।

মঙ্গলবার দিনভর বিলটি নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলে, যেখানে সরকার ও বিরোধী পক্ষের সাংসদরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। দীর্ঘ বিতর্কের পর মধ্যরাত পর্যন্ত আলোচনা চলে। এরপর মধ্যরাত ১২টার দিকে ভোটিং প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে বিলটির পক্ষে ২৮৮টি ভোট পরে।

ওয়াকফ বিলে কি বড় পরিবর্তন?

ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হলো সেই স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, যা আল্লাহর নামে নিবেদিত। পুরোনো আইন অনুযায়ী, কোনো সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ ঘোষণার একমাত্র অধিকারী ছিল ওয়াকফ বোর্ড। নতুন বিলে সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে জেলা শাসক বা সমপদমর্যাদার কোনো সরকারি আধিকারিককে। নতুন বিলে অমুসলিমদেরও ওয়াক্‌ফ বোর্ডের সদস্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে মুসলিম নারীদের সদস্য করার ক্ষেত্রেও।

এছাড়াও গতকাল বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল পেশ করল কেন্দ্র সরকার। এই বিলের মাধ্যমে সুন্নি মুসলিমদের পাশাপাশি শিয়া, বোহরা ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদেরও ওয়াকফ বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। এছাড়া, দেশের সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তি পোর্টালের মাধ্যমে নথিভুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

ভারতে প্রথম ওয়াকফ আইন পাস হয় ১৯৫৪ সালে। পরে ১৯৯৫ সালে সংশোধন করে ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ওয়াকফের বিপুল সম্পত্তি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত, ফলে সাধারণ মুসলিমরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিল পেশ করে সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, দেশে বর্তমানে ওয়াকফ সম্পত্তির সংখ্যা ৪ লাখ ৯০ হাজার থেকে বেড়ে ৮ লাখ ৭২ হাজারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘‘এই সম্পত্তিগুলি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে না, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিরও পরিবর্তন ঘটবে।’’

গতকাল ২ এপ্রিল লোকসভায় সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি পেশ করেন। দিনভর বিতর্কের সময় সরকার ও বিরোধী পক্ষের সাংসদদের মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “কিছু লোক সংখ্যালঘুদের ভয় দেখিয়ে তাদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।”

শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই বিল অসাংবিধানিক এবং তৃণমূল এটি সমর্থন করছে না।

তার অভিযোগ, বিজেপি এই বিলের মাধ্যমে মুসলিমদের অধিকার কমাতে চাইছে এবং এতে কেন্দ্রীয় সরকারের লুকানো উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘সরকার যদি ঐক্য চায়, তাহলে বিলের মধ্যে বিভেদের কথা কেন?’’

এদিকে, এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বিলের বিরোধিতা করে সংসদে প্রতীকীভাবে এটি ছিঁড়ে ফেলেন।