রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনার পর বড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। তালিকায় নাম থাকবে কি না, সেই অনিশ্চয়তার আতঙ্ক এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে প্রাণ হারিয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মী, বিশেষ করে ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও)-রা। এই পরিস্থিতিতে শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃত ৬১ জনের পরিবারের একজন করে সদস্যকে হোমগার্ড পদে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই এই নিয়োগ হবে বলে জানা গেছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, মূলত পুরুলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদসহ প্রায় ১৪টি জেলায় এই মৃত্যু সংবাদ মিলেছে। কেউ শুনানির চাপে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন, আবার কেউ নথিপত্র জোগাড়ের আতঙ্কে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শাসকদল তৃণমূল এসআইআর এর প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে। নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত চাপের কারণেই এই অকাল মৃত্যুগুলি ঘটেছে বলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন। যদিও এই নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে কমিশনের দপ্তরে গিয়ে তথ্যপ্রমাণও জমা দিয়ে এসেছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ দুদিন পর ভোটার তালিকা ফাইনাল লিস্ট প্রকাশের কথা। তার ঠিক আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মৃতদের পরিবারের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল রাজ্যের তৃণমূল সরকার।

