আম আদমি পার্টি (AAP) এবং রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে নিয়ে এই মুহূর্তে ভারতীয় রাজনীতিতে বড়সড় জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের অন্যতম পরিচিত এবং তরুণ মুখ রাঘবকে সংসদের একটি বড় পদ থেকে সরিয়ে দিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল রাজ্যসভা সচিবালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে আপ।
এতদিন রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির ডেপুটি লিডার বা সহ-নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন রাঘব চাড্ডা। কিন্তু দল এখন সেই দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর জায়গায় পাঞ্জাবেরই আরেক সাংসদ এবং লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি র চ্যান্সেলর অশোক মিত্তলকে নতুন ডেপুটি লিডার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত এবং চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আম আদমি পার্টি রাজ্যসভা সচিবালয়কে দেওয়া চিঠিতে একটি বিশেষ অনুরোধ করেছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির জন্য যে সময় বরাদ্দ থাকে, সেখান থেকে যেন রাঘব চাড্ডাকে কথা বলার জন্য কোনো সময় না দেওয়া হয়। সাধারণত কোনো সাংসদ কতক্ষণ বা কবে বক্তব্য রাখবেন, তা তাঁর দলই ঠিক করে। দলের এই কড়া নির্দেশের পর প্রশ্ন উঠছে তবে কি সংসদে রাঘবকে আর কথা বলতে দেখা যাবে না?
রাঘব চাড্ডা সম্প্রতি টেলিকম কোম্পানিগুলো যখন রিচার্জের দাম বাড়িয়েছিল, তখন রাঘব চাড্ডা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি সংসদে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, সাধারণ মানুষের ওপর কেন এই বাড়তি বোঝা চাপানো হচ্ছে। রাঘব চাড্ডা শুধু গতানুগতিক রাজনীতিতে আটকে থাকেননি। অনলাইন বেটিং বা জুয়ার অ্যাপের বিজ্ঞাপনের কুফল থেকে শুরু করে আইপিএল-এর সময় তরুণদের আসক্তি নিয়ে তিনি বারবার সতর্ক করেছেন।
এছাড়াও আরও অনেক এই ধরণের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে জোরালোভাবে তোলার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে আম আদমি পার্টি সরাসরি কিছু না বললেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

