প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর দেশের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেন তাঁর ছেলে সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনি (Mojtaba Khamenei)। আর দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ নিজের করা পোস্টে এবং জাতির ও জনগণের উদ্দেশে একাধিক পোস্টে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব।
এদিন নিজস্ব এক্স হ্যান্ডেলে মোজতবা খামেনি তাঁর ভাষণের একাংশ তুলে ধরেন বলেন, “আমি দেশবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছি, শহিদদের রক্তের শোধ না নিয়ে আমরা থামব না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই প্রতিশোধ কেবল প্রাক্তন নেতার হত্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং শত্রুর হাতে নিহত হওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের হয়ে বদলা নেবে ইরান। এ পর্যন্ত নেওয়া প্রতিশোধকে ‘সীমিত’ উল্লেখ করে তিনি একে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের সাহসী প্রতিরোধের কারণে দেশকে বিভক্ত বা পরাধীন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণাও দেন তিনি।
নতুন সর্ব্বোচ নেতা মোস্তফা খামেনি আরও বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চায়। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন যে, অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো দ্রুত বন্ধ করতে হবে, নইলে সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। তার দাবি, ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে।
এছাড়াও এদিন শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে তিনি জানান, ইরান তাদের কাছ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায় করবে; অন্যথায় শত্রুর সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা সমপরিমাণ সম্পদ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরান শত্রুদের ওপর চাপ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও বহাল রাখবে বলে জানান তিনি।



