আসাম বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্যের মহিলাদের জন্য বিরাট ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রাজ্যের মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা এবং সরাসরি তাঁদের হাতে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘অরুণোদয় ৩.০’ (Orunodoi 3.0) প্রকল্পের আওতায় এককালীন ৯,০০০ টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ১০ই মার্চ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আসামের মুখ্যমন্ত্রী এ কথা জানান, রাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ মহিলা সরাসরি এই সুবিধা পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি কোন নতুন প্রকল্প নয়। ২০২০ থেকে চলে আসছে এই প্রকল্প। তখন ৮৩০ টাকা করে দেওয়া হতো এখন সেটা বাড়িয়ে প্রতিমাসে ১২৫০ টাকা করে প্রেরণ করা হবে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এবং বোহাগ বিহু (আসামের একটি জনপ্রিয় উৎসব) উপলক্ষে অতিরিক্ত উৎসব বোনাস ফলে তারা ৯ হাজার টাকা পাচ্ছেন। ২০২০ থেকে চললেও মাঝে নিয়মের পরিবর্তন এসেছে প্রথমে খুবই স্বল্প পরিসরে এই মূল্য দেওয়া হতো এখন তো বাড়িয়ে রাজ্যের ৪০ লক্ষ্য নারীকে টার্গেট করা হয়েছে। যার জন্য আসাম সরকার প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন।
এটি খুব বড় স্কিম নয় যার ফলে সবাই পাবেন না এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা, তবে কারা পাবে সুবিধা সেবিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রকল্প সবার জন্য নয়। সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের মহিলা প্রধান। বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারী।
অবিবাহিত ও বিশেষভাবে সক্ষম (প্রতিবন্ধী) নারী। নতুন আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই শেষে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। আর যাঁরা আগে থেকেই এই প্রকল্পের সদস্য, তাঁদের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
সামনে নির্বাচন, তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। বিরোধীদের প্রশ্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই কি এমন পরিকল্পনা? তবে এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, “অন্যান্য রাজ্যের মতো এখানে ঢালাওভাবে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। এটি নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির অভাবী মহিলাদের জন্য একটি সীমিত প্রকল্প এবং এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।“
উল্লেখ্য, বাংলার মতোই এবার সেখানেও হতে চলেছে নির্বাচন। ২০২১ সালের নির্বাচনে ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি এককভাবে ৬০টি আসনে জিতেছিল এবং তাদের জোট (NDA) সব মিলিয়ে ৭৫টি আসন পেয়েছিল। এরপরই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবারও সেই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।

