ক্লাসরুমের মেঝেতে চটাই পেতে শুয়ে আছেন প্রধান শিক্ষিকা, আর তাঁর চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে ছোট ছোট স্কুল পড়ুয়া সেই শিক্ষিকার হাত, পা ও কোমরে বেলন দিয়ে ম্যাসাজ ও মালিশ করছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূট জেলার করভী এলাকার নয়া বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা মধু কুমারীর বিরুদ্ধে উঠে আসে এমনই এক অমানবিক ও বিতর্কিত অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্কুল চলাকালীনই ক্লাসরুমের মেঝেতে দিব্যি শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা। আর তাঁর সেবা করছে স্কুলেরই খুদে ছাত্রছাত্রীরা। তাদের দিয়ে হাত-পা টেপানোর পাশাপাশি বেলন ব্যবহার করে কোমরে ও পিঠে মালিশও করানো হচ্ছে। ছাত্ররা স্কুল ইউনিফর্ম পরে থাকা অবস্থায় এই কাজ করাচ্ছেন।
এছাড়াও ওই ভিডিওতে প্রধান শিক্ষিকা মধু কুমারীকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায় “আরে বেটা, জোর-জোর লাগাও… হাঁ এই তরফ থেকে… উপর থেকে নিচে পর্যন্ত ভালো করে দবাও… আহা! কিতনা মজা আ রহা হ্যায়… থোড়া আর জোর লগাও বেটি… হাঁ, তুম তো বড়িয়া মালিশ করতি হো… এই দিকও আরেকটু… ওহো! বাহুত আরাম মিল রহা হ্যায়!”
এর বাংলা হচ্ছে; বাবু, জোরে জোরে চাপ দাও… হ্যাঁ এদিক থেকে… উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ভালো করে চাপো… আহ্! কী দারুণ মজা লাগছে… একটু আরও জোর দাও মেয়ে… হ্যাঁ, তুমি তো খুব ভালো মালিশ করো… এদিকটাও আরেকটু… ওহো! খুব আরাম পাচ্ছি।
এছাড়াও ওই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পড়ুয়ারা ভয়মিশ্রিত বা আদেশ মেনে মালিশ করছে, আর মধু কুমারী আরাম করে শুয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন বা মোবাইল দেখছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি এমডি ৩৬০ নিউজ।
উল্লেখ্য , স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে খবর।

