শিশু মৃত্যু রোধে ভারতের রেকর্ড সাফল্য, রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে কুর্নিশ ভারতকে

Anisa Zeba
By
Anisa Zeba
রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ভাবেন ও লেখেন। সমাজ, রাজনীতি এবং চলমান ঘটনাবলির উপর নজর রেখে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তুলে ধরাই তাঁর আগ্রহ। বর্তমান সময়ের...
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

সম্প্রতি জাতিসংঘের ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ ফর চাইল্ড মর্ট্যালিটি এস্টিমেশন (UNIGME)-র ২০২৫ সালের এক রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, ভারত ‘পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের বেঁচে থাকা’ নিশ্চিত করায় বিশ্বে এক উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছে। বর্তমানে এই হার প্রতি ১০০০ জনে মাত্র ১৭ জন।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

দিন বদলেছে, ছবিও বদলেছে।  এক সময় যে দেশে প্রতি হাজার শিশুর মধ্যে ১২৭ জন পাঁচ বছর হওয়ার আগেই অকালমৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত, আজ সেই ভারতেই ছবিটা এক্কেবারে অন্যরকম।  এই খরা কাটিয়ে ভারত যেভাবে নিজের শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে, তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে খোদ ইউনিসেফ।  সারাবিশ্বে ২০২৪ সালে প্রায় ৪৯ লক্ষ শিশু পাঁচ বছরের নিচে মারা গিয়েছে, যার মধ্যে ২৩ লক্ষ হলো নবজাতক যাদের বয়স ছিল ২৮ দিনের নিচে।  এই মৃত্যুগুলোর প্রধান কারণ সঠিক চিকিৎসা, অবহেলা ও অযত্ন।

এই ক্ষেত্রে ভারতের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়।  আমরা যদি ১৯৯০ সালের কথা ধরি, তবে তখন প্রতি ১০০০ জনে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১২৭ জন; কিন্তু ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭ জনে।  আমাদের দেশের বিশাল জনসংখ্যা ও শিশু মৃত্যুর উচ্চহার ভারত সরকারের জন্য দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।  এই সমস্যার সমাধানে সরকার বিভিন্ন সময়ে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভারতের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত জনস্বাস্থ্য প্রচেষ্টা।  জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM)-এর মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়ন করা হয়েছে।

জননী সুরক্ষা যোজনা (JSY) এবং জননী শিশু সুরক্ষা কর্মসূচি (JSSK)-এর মতো প্রকল্পগুলো গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।  এছাড়া ‘মিশন ইন্দ্রধনুষ’ টিকাকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের হেপাটাইটিস-বি, পোলিও, নিউমোনিয়া, হাম ও রুবেলার মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।  এছাড়াও আশা (ASHA) ও আইসিডিএস (ICDS) কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং দেশজুড়ে পরিচালিত ‘পোষণ অভিযান’ (POSHAN Abhiyaan) মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

ইউনিসেফ ইন্ডিয়া (UNICEF India) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভারতের এই ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রশংসা করে একে একটি ‘মান-নির্ভর সমন্বিত পদ্ধতি’র জয় হিসেবে অভিহিত করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ১৯৯০ সালের তুলনায় এখন নবজাতক মৃত্যুহার প্রায় ৭০% এবং ৫ বছরের নিচের শিশু মৃত্যুহার ৭৯% কমেছে।  শিশুদের সুস্বাস্থ্যের পেছনে সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগই ভারতকে আজ বিশ্বের সামনে একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

Share This Article
রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ভাবেন ও লেখেন। সমাজ, রাজনীতি এবং চলমান ঘটনাবলির উপর নজর রেখে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তুলে ধরাই তাঁর আগ্রহ। বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সহজ ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন।