শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় উঠেছে। শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক আদিবাসী সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান যে, সাধারণত তাঁর সফরে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকেন, কিন্তু এবার তা দেখা যায়নি। নিজেকে ‘বাংলার মেয়ে’ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বোন’ হিসেবে সম্বোধন করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁকে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর ওপর কেন এত রাগ। রাষ্ট্রপতির এই সরাসরি আবেগপ্রবণ মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
রাষ্ট্রপতির এই আক্ষেপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটিকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণের জন্য ব্যবহার করছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, রাষ্ট্রপতি ‘বিজেপির ট্র্যাপে’ পড়ে গিয়েছেন। তিনি প্রোটোকল সংক্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এটি একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন ছিল এবং জেলা প্রশাসন আগে থেকেই প্রস্তুতির অভাব নিয়ে সতর্ক করেছিল। এমনকি কিছুটা শ্লেষের সুরেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “বছরে একবার এলে অবশ্যই রিসিভ করব, কিন্তু কেউ বছরে ৫০ বার এলে কি আমার এত সময় আছে?“
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া প্রতিক্রিয়ার জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গর্জে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বলেন, একজন আদিবাসী রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অবমাননা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রত্যেককে ব্যথিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং তাঁর মর্যাদা রক্ষা করা সবার কর্তব্য। একই সুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উপ-রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনও রাজ্যের শাসক দল মমতার সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেন। এদিন শাহ অভিযোগ করেন, এই সরকার কেবল সাধারণ মানুষের অধিকারই লঙ্ঘন করে না, বরং দেশের সর্বোচ্চ পদকেও সম্মান দিতে জানে না। সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই নজিরবিহীন সংঘাত বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
উল্লেখ্য যে, এদিন রাষ্ট্রপতিকে পাল্টা নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় আদিবাসীদের উন্নয়ন নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কী? ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ আদিবাসীর নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাষ্ট্রপতি কেন নীরব!
