Submit Appeal for Deleted Voter Online: ভোটার তালিকায় নাম নেই? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে বসল ১৯টি ট্রাইব্যুনাল, আজ থেকেই শুরু অনলাইন আবেদন- 222

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
6 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান।  সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে সক্রিয় হলো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।  শনিবার রাত থেকেই নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে শুরু হয়ে গেল অনলাইনে আবেদন বা আপিল করার প্রক্রিয়া।  মূলত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাতিলের বিষয়ে জুডিশিয়াল আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটাররা এখন এই ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

গত ২০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে।  শনিবার রাত থেকেই সক্রিয় হয়েছে কমিশনের অনলাইন পোর্টাল।  তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের পাশাপাশি এখন SIR (Second Inspection Report) নিয়ে সরাসরি ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারবে।

কীভাবে আবেদন করবেন? দেখে নিন ধাপে ধাপে

১. প্রথমেই সরাসরি voters.eci.gov.in লিঙ্কে ক্লিক করুন।


২. এরপর আপনার যদি আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করা থাকে, তবে মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করুন।  আর যদি নতুন হন, তবে ‘Sign-Up’ অপশনে গিয়ে নম্বর রেজিস্টার করে নিন।
৩. এরপর সরাসরি দেখতে পারবেন এরকম একটা হোমস্ক্রিন।

হোমস্ক্রিন লেখা দেখতে পারবেন Submit Appeal for Individuals Under adjunction অপশনটি পাবেন, তবে আপনার সুবিধার্থে সেই অংশটি লাল চিহ্নিত করা হয়েছে।  এবং সেখানে ক্লিক করুন।

৪. তারপর নিজের এপিক বা মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP র সাহায্যে লগইন করুন।  আর আগে থেকে মোবাইল নম্বর দেওয়া না থাকলে, আগে সাইন আপ করুন তারপর লগইন করুন (যদি পূর্বে প্রোফাইল বানিয়ে নেন তাহলে এটি করতে হবে না) ।
তবে আপনার সুবিধার্থে নিচে দেওয়া হলো কি রকম স্ক্রিন প্রদর্শিত হবে আপনার সামনে।

৫. লগ‌ইন বা‌ সাইন আপ হয়ে গেলে নিচে দেখানো হোম স্ক্রীন শো করবে, সেই হোম স্ক্রিনের বাম দিকে দেখতে পাবেন ‘Submit Appeal for Individuals (Under Adjudication)’।  সেখানে ক্লিক করুন। (আবেদনকারীদের সুবিধার্থে নিচের ছবিতে সেই অপশনটি লাল চিহ্নিত করা হয়েছে)।

৬ Submit Appeal for Individuals (Under Adjudication)’ অপশনে ক্লিক করলে আপনার সামনে নিচের স্ক্রিনটি ফুটে উঠবে।  সেখানে নির্দিষ্ট বক্সে নিজের ভোটার আইডি বা EPIC নম্বর লিখে ‘Search’ বাটনে ক্লিক করুন। (নিচে আপনার সুবিধার্থে সেই স্ক্রিনটি দেখানো হলো)।

৭, এপিক (EPIC) নম্বর দিয়ে সার্চ করার পর আপনার সামনে ‘Appellant Details’ বা আবেদনকারীর বিবরণের একটি নতুন স্ক্রিন ফুটে উঠবে।  এখানে আপনার নাম এবং ভোটার কার্ডের নম্বর আগে থেকেই দেখতে পাবেন। এরপর নির্দিষ্ট বক্সে আপনার একটিভ মোবাইল নম্বরটি দিতে হবে।  ঠিকানার কলামে আপনার বর্তমান পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা এবং পিনকোড (PINCODE) নির্ভুলভাবে টাইপ করুন (সর্বোচ্চ ২৫০ শব্দের মধ্যে)।

এর পরবর্তী ধাপে, কেন আপনি আপিল করছেন বা আপনার নাম কেন তালিকায় থাকা উচিত, সেই কারণগুলি (Brief facts of the appeal) কমিশনের নির্ধারিত ১০০০ শব্দসীমার মধ্যে বিস্তারিতভাবে লিখতে হবে।  আপনি ঠিক কী ধরণের প্রতিকার বা সংশোধন চাইছেন (Relief sought), তা জানাতে হবে ৫০০ শব্দের মধ্যে।  সবশেষে, আপনি যেখান থেকে আবেদন করছেন সেই স্থানের (Place) নাম লিখে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করলেই আপনার আবেদন প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

৮. ট্রাইবুনালে অনলাইনে আবেদন সাবমিট হয়ে গেলে আপনার আপিলটি কোন পর্যায়ে আছে, তা জানার জন্য পোর্টালে ‘Track Appeal for Individuals (Under Adjudication)’ অপশনে ক্লিক করুন।  এরজন্য আপনাকে সেই আপিল ভোটারের ভোটার কার্ড নম্বর উল্লেখ করে Search এ ক্লিক করুন।  তবে কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যদি আপনার নাম চূড়ান্ত বা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় না থাকে এবং আপনি যদি কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান, তবে হাতে মাত্র ১৫ দিন সময় পাবেন।  এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন না করেন, কমিশন ধরে নেবে আপনার আর কোনো অভিযোগ নেই।  ফলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ সেই বারের মতো চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

Submit Appeal Tribunal Deleted Voter Link: Appeal Link – Click 

Voter Service Portal Link: Click Now

Track Appeal for Individuals (Under Adjudication): Click Now 

অনলাইনে আবেদনপত্রটি চূড়ান্তভাবে ‘Submit’ করার আগে প্রতিটি তথ্য আরও একবার ভালো করে মিলিয়ে নিবেন। কারণ, একবার আবেদন জমা পড়ে গেলে বর্তমানে পোর্টালে সেটি পুনরায় এডিট (Edit) বা সংশোধন করার কোনও সরাসরি অপশন নেই।  বিশেষ করে আপনার নাম, এপিক নম্বর এবং ঠিকানার পিনকোড যেন নির্ভুল থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিন। যেহেতু কমিশন নির্দিষ্ট শব্দসীমা (ঠিকানা ২৫০ শব্দ, কারণ ১০০০ শব্দ এবং উদ্দেশ্য ৫০০ শব্দ) বেঁধে দিয়েছে, তাই অতিরিক্ত শব্দ লিখে ফেললে আপনার আবেদনটি অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।  তাই তাড়াহুড়ো না করে ধীরে-সুস্থে সব তথ্য যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সাবমিট বোতামে ক্লিক করুন। কারণ, ট্রাইব্যুনালের জন্য কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আর, অফলাইনে কিভাবে আবেদন করতে হবে জানুন
অফলাইনে আবেদন পদ্ধতিটি হবে এরকম আপনার এলাকার মহকুমা শাসক (SDO) বা জেলাশাসকের (DM) দপ্তরে গিয়ে সশরীরে আবেদনপত্র বা ফর্ম জমা দিতে হবে।  সেখান থেকেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে আপনার সেই আবেদনটি ট্রাইব্যুনাল তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া দেবে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।  তবে পাঠকদের জেনে রাখা ভালো, নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত অফলাইনে আবেদনের জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি।  এমনকি অফলাইনে আবেদনের জন্য ঠিক কোন ফর্মটি পূরণ করতে হবে বা কী কী প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents) লাগবে, তা নিয়েও এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।  কারণ অনলাইনে আবেদন করার পর আবেদনকারীরা পাচ্ছে না এডিট অপশন।  তাই কমিশনের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় এখন তাকিয়ে আছেন সাধারণ ভোটাররা।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।