ওমান উপকূলের কাছে ওশানিক ট্যাঙ্কারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে উত্তাল দেশের রাজনৈতিক মহল। ঘটনার বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে এই বিষয়ে সরাসরি কোনো শোকপ্রকাশ বা বিবৃতি দেননি। প্রধানমন্ত্রীর এই নীরবতা দেশের প্রধান বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের বড় অংশের দাবি, যেখানে বিশ্বনেতাদের বিভিন্ন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সাড়া দেন, সেখানে দেশের তিন নাবিকের মৃত্যুতে তাঁর এই মৌনতা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এই ইস্যুতে মোদি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘আপসকারী প্রধানমন্ত্রী’ (Compromised PM) বলে কটাক্ষ করে অভিযোগ করেন যে, বিদেশী শক্তির সামনে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার সাহস ও মানসিকতা এই সরকারের নেই। সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ ও এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সহ একাধিক বিরোধী নেতাও এই ঘটনার পর মোদি সরকারের বিদেশ নীতির সমালোচনা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের খাতিরেই কি সরকার এই হামলায় নিহত ভারতীয়দের সুরক্ষার প্রশ্নে এতটা নরম মনোভাব দেখাচ্ছে?
তবে প্রধানমন্ত্রী নিজে কোনো পোস্ট না করলেও, এই ঘটনা নিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত সরকার। ওমান উপসাগরে এই হামলার পর ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সরাসরি মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-কে ফোন করে ভারতের তীব্র প্রতিবাদের কথা জানিয়েছেন। শনিবার ভোরে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (X) পোস্ট করে জয়শঙ্কর নিজেই এই কথা জানান। তিনি মার্কিন প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই ধরণের প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর পাশাপাশি নতুন দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিবিদকে তলব করেও কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন