নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে, শাসক থেকে বিরোধী দল সবাই এখন সেই যুদ্ধে জেতায় মরিয়া। ঠিক সেই সময় প্রকাশিত হলো রাজ্যের সবথেকে বড় বিরোধী দল বিজেপির ইস্তেহার (ম্যানিফেস্টো)। কী রয়েছে সেই ইস্তেহারে? সেটাই আজকের আলোচনার মূল বিষয়।
ইস্তেহারে মূলত ১৫টি প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। তবে মূল কিছু প্রতিশ্রুতি যার কথা না এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে-
১. ১ কোটি চাকরি প্রদান।
২. প্রতিমাসে ৩০০০ টাকা মহিলাদের।
৩. প্রতিমাসে ৩০০০ টাকা বেকার যুবকদের।
৪. DA দেওয়া ও রাজ্যে ৭ম পে কমিশন চালু।
৫. UCC (ইউনিয়ন সিভিল কোড) চালু ৬ মাসের মধ্যেই।
৬. মহিলা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ গঠন।
৭. ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন বলবৎ করা।
ইস্তেহারে প্রকাশিত এই তালিকা কিন্তু বাংলায় ইতিবাচক বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এর গভীর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মহিলাদের ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিটি আমাদের রাজ্যে ২০২১ সাল থেকে চলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ স্কিমের অনুরূপ বলেই মনে হয়, যেখানে বর্তমান সরকার ইতিপূর্বেই ভাতা বাড়িয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বেকারদের ৩০০০ টাকা দেওয়া, যা অনেকটা ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের নকল বলে মনে হতে পারে। আর মহিলা সুরক্ষার জন্য বলা ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ অনেকটা বর্তমানের ‘পিঙ্ক বুথ’ ব্যবস্থারই নামান্তর।
তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির প্রকাশিত এই ইস্তেহারকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একাধিক তোপ দেগেছেন। তাঁর প্রশ্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে কেন নিঃশর্তে মহিলাদের এই ভাতা দেওয়া হয় না? তিনি দিল্লি বিধানসভা ভোটের আগের এক প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা থাকলেও আজও তা অনেকেই পাননি। অভিষেক এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে ‘নতুন জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এমনকি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন যদি কেন্দ্র কড়া হয়, তবে শেখ হাসিনা কীভাবে দিল্লিতে দেড় বছর রয়েছেন?
বিজেপি এই ১ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইস্তেহারে কোনো ব্লু-প্রিন্ট দেওয়া হয়নি। অভিষেক দাবি করেন, বছরে ২ কোটি চাকরির পুরনো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এতদিনে ১২ বছরে ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা ছিল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ১ কোটি চাকরির এই নতুন দাবি কতটা বাস্তবসম্মত?
তাই প্রশ্ন থেকে যায়, এত অসফল উদাহরণের পরও কি বাংলায় ২.২ কোটি মহিলাকে অর্থ প্রদান বা সুরক্ষা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব হবে বিজেপির পক্ষে?

