বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বাবা–মা একসময় সন্তানদের বড় করে তুলতে এবং যোগ্য মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজেদের সুখ–স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দ বিসর্জন দেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যাঁদের সবচেয়ে বেশি দরকার সন্তানদের সঙ্গে থাকা, বাস্তবে সেইসব বাবা-মায়েরা আজ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপট বদলায় শেষ বয়সে মা–বাবা যখন বার্ধক্যের ঘরে, তখন দৃশ্যপট পাল্টে যায় মা–বাবার প্রয়োজন ফুরিয়েছে বলে। তখন ধীরে ধীরে তাঁদের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বৃদ্ধ অভিভাবকদের। নিজের অবস্থান জোরালো করতে অজুহাতের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে, যার আড়ালে চাপা পড়ে যায় দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। এই কঠিন বাস্তবতাকেই এবার আইনের আওতায় আনতে চাইছে তেলেঙ্গানা সরকার।
সন্তান যদি বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব না নেন তাহলে বাদ পড়বে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনের ১০-১৫ শতাংশ। এবং সেই টাকা সরাসরি জমা হবে বাবা –মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বলেন, রাজ্যের বহু বয়স্ক নাগরিক সন্তানদের অবহেলার কারণে কষ্টের জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে নিয়মিত অভিযোগ আসছেও, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না বলে এবার নতুন আইন কার্যক্রম হতে চলছে। এছাড়াও পাশাপাশি ‘প্রণাম’ নামে ডে কেয়ার কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান, যেখানে বয়স্কদের যত্ন, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাবেন।
