ক্ষমতা যখন নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন প্রথমেই তাকাতে হয় ক্ষমতাবানদের দিকে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরে অন্যের নৈতিকতা নিয়ে বড় বড় কথা বললেও, এবার নিজেই ফেঁসে গেছেন কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে নিজের গোপন সম্পর্কের জালে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন-সংক্রান্ত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথি বা ‘এপস্টাইন ফাইল’ প্রকাশ করার পর বিশ্বজুড়ে করপোরেট ও রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে; যেখানে মাস্কের মুখোশ খুলে যাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
নথিতে উঠে এসেছে ইলন মাস্ক ২০১২-১৩ সালের দিকে এপস্টেইনের দ্বীপে ‘বন্য পার্টি’র সময় জানতে চেয়েছিলেন বলে ইমেইলে দেখা যায়। এর আগে মাস্ক দাবি করেছিলেন, জেফরি এপস্টাইন তাকে বারবার দ্বীপে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও তিনি তা ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছিলেন। কিন্তু বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথি বলছে ভিন্ন কথা। ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে করা বেশ কিছু ইমেইল আদান-প্রদান প্রমাণ করে যে, মাস্ক নিজেই এপস্টাইনের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখেছিলেন।
যদিও মাস্ক এসব দাবিকে তাকে ফাঁসানো বা কলঙ্কিত করার চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
যদিও একাংশ দাবি ইলন মাস্ক একসময় সামান্য কারণে অন্যদের ‘পেডোফাইল’ বা শিশু যৌন নিপিড়ক বলে গালি দিতে দ্বিধা করেন না, তিনি নিজেই কীভাবে একজন প্রমাণিত শিশু যৌন অপরাধীর সান্নিধ্য পেতে মরিয়া ছিলেন, তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে?
প্রসঙ্গত, তবে মাস্কের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কিন্তু নতুন নয়, তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এর এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’। ব্যক্তির সম্মতি ছাড়াই নগ্ন ছবি এবং এমনকি শিশুদের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরির সুযোগ করে দিয়ে নতুন করে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন এই ধনকুবের।
এছাড়াও এতে ইলন মাস্কের পাশাপাশি জড়িত ডোনাল্ড ট্রাম্প,অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর সহ নামিদামি সেলিব্রিটি গায়ক, নায়ক, খেলোয়াড়, নির্মাতা সহ অনেকেই।

