রাজ্যের মাদ্রাসাগুলো নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা সরকার অনুমোদিত মাদ্রাসায় প্রতিদিন ক্লাস শুরু হওয়ার আগে সকালের প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম্‘ গানটি গাইতেই হবে। গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর থেকে এই কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে এই নিয়ম এখন থেকেই মেনে চলতে হবে। শুধু তাই নয়, এর আগে প্রার্থনা সভায় যে যার মতো আলাদা যেসব নিয়ম বা প্রথা মেনে চলত, সেগুলো সব বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে রাজ্যের সব মাদ্রাসার জন্য একটাই নিয়ম।
এর আগে মে মাসেরই ১৩ তারিখে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর একটা নিয়ম করেছিল যে, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সাধারণ সরকারি স্কুলে প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম্’ গাইতে হবে। ঠিক তার কয়েকদিন পরেই মাদ্রাসাগুলোর জন্যও একই নিয়ম নিয়ে এলো। এই বিষয়ে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু পরিষ্কার জানিয়েছেন, রাজ্যের অন্য সব সরকারি স্কুলে যদি ‘বন্দে মাতরম্‘ গাওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে, তবে মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা কেন আলাদা থাকবে? সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল বার্তাটা হলো শিক্ষার জায়গায় কোনো আলাদা খাতির বা ‘তুষ্টিকরণ‘ চলবে না, সবার জন্য নিয়ম সমান হতে হবে।
তবে সরকার সমান নিয়মের কথা বললেও, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিন্তু বেশ বিতর্ক আর কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়ে গেছে। যেমন কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ ইমরান মাসুদ এই নিয়মের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন যে, আমাদের দেশের সংবিধান সবাইকে নিজের ধর্ম পালন করার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে চালানোর স্বাধীনতা দিয়েছে। তাঁর দাবি, এভাবে জোর করে নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে সরকার আসলে সংখ্যালঘু, দলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের ওপর জোর খাটাতে চাইছে।
উল্লেখ্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই ‘বন্দে মাতরম্’ গানটির এবার ১৫০ বছর অর্থাৎ সার্ধশতবর্ষ পূর্ণও হয়েছে। এই বিশেষ বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে নানা বড় বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আর ঠিক এই চেনা আবহেই পশ্চিমবঙ্গের স্কুল ও মাদ্রাসায় গানটি বাধ্যতামূলক করা হলো।
