ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভারত তীব্র প্রতিবাদ জানালেও, মার্কিন প্রশাসন উল্টো ইরানের তেল পরিবহনের অভিযোগে ভারতকে কড়া বার্তা দিয়েছে। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে এক টেলিফোন কথোপকথনের পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগটের দেওয়া সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর হরমুজ প্রণালীর সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় রুবিয়ো স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, হরমুজ প্রণালীতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে মার্কিন বাহিনীর দেওয়া আদেশ সকল বাণিজ্যিক জাহাজকে অবিলম্বে মেনে চলতে হবে। এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন এবং ইরানের তেলের অবৈধ পরিবহন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, এই হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সূত্রের খবর, এই ঘটনার প্রতিবাদে ভারত শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মতো নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে তলব করেছে।
ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বয়ানে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা ওই বাণিজ্যিক জাহাজটিকে বারবার সতর্ক করেছিল, কিন্তু নাবিকরা তা উপেক্ষা করেন। তাই তারা একে কোনো ‘দুর্ঘটনা’ বা ‘ভুল’ হিসেবে দেখছে না এবং এজন্য দুঃখ প্রকাশের কোনো অবকাশ নেই বলে তাদের অবস্থান। অন্যদিকে, জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা মার্কিন নৌবাহিনীর এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি এবং জাহাজটিতে ইরানের কোনো তেলও ছিল না।
