রোদ, জল কিংবা ঝড় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যাঁরা আমাদের দরজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেন, সেই গিগ ওয়ার্কার বা ডেলিভারি কর্মীদের জন্য এবার বড়সড় মানবিক পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। ফুড ডেলিভারি থেকে শুরু করে ওষুধ বা মুদির সামগ্রী পৌঁছানোর কাজে যুক্ত এই মেহনতি মানুষদের সুবিধার্থে এবার রাস্তায় রাস্তায় পরিশ্রুত পানীয় জল এবং মোবাইল চার্জিং পয়েন্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিন রাজ্যের নতুন বাজেটে এই অভিনব পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে অর্থ মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ডেলিভারি কর্মীদের পুরো কাজটাই চলে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ বাইক বা স্কুটার চালিয়ে কাজ করার সময় ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া মানেই তাঁদের উপার্জনে সরাসরি কোপ পড়া। পাশাপাশি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিকের মধ্যে ঘুরে কাজ করার ফলে একটু পরিশ্রুত পানীয় জলের খোঁজ করাও তাঁদের জন্য বেশ ঝক্কির হয়ে দাঁড়ায়। গিগ কর্মীদের এই রোজকার হয়রানি ও কষ্টের কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ও চত্বরে এই বিশেষ সুবিধা কেন্দ্রগুলি গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর ফলে ডেলিভারি পার্টনাররা কোনো বাড়তি দুশ্চিন্তা ছাড়াই রাস্তায় নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন। শুধু এই দৈনিক সুযোগ-সুবিধাই নয়, রাজ্য বাজেটে গিগ কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ বা কল্যাণ পর্ষদ গঠনের কথাও জানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি গিগ কর্মী রয়েছেন, যার একটি বড় অংশ এ রাজ্যে কর্মরত। কোনো স্থায়ী চাকরি বা ভবিষ্যৎ তহবিলের (PF) নিশ্চয়তা না থাকায় এঁদের ভবিষ্যৎ সবসময় অনিশ্চিত থাকত। এবার এই কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে তাঁদের সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় এনে দুর্ঘটনাজনিত বিমা ও স্বাস্থ্য সহায়তার মতো একাধিক জরুরি সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।
