দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে জাতীয় জনগণনা বা সেন্সাসের কাজ। শুক্রবার নবান্নে এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে এই সেন্সাস প্রক্রিয়া চলবে। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষার স্বার্থে এই মহৎ কর্মযজ্ঞে শামিল হতে এবং প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে রাজ্যের সমস্ত স্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এবারের জনগণনা প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপায়িত হতে চলেছে সেন্সাস। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ আগস্ট কাজ শুরু হওয়ার পর প্রথম দফায় ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মানুষ নিজে থেকেই তথ্য নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন, যা কারিগরি ভাষায় ‘সেলফ এনুমারেশন‘। ইতিপূর্বেই দেশের একাধিক রাজ্যে এই কাজ শুরু হয়ে গেলেও, পশ্চিমবঙ্গ এক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই রাজ্যের এই কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
আমজনতার সুবিধার্থে এবং সেন্সাস সংক্রান্ত যেকোনো জিজ্ঞাসা বা সমস্যার দ্রুত সমাধানে সরকারের তরফে একটি বিশেষ হেল্পলাইন ও ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় হেল্পলাইন নম্বরটি হলো ১৮৫৫। পাশাপাশি রাজ্যের জন্য একটি ল্যান্ডলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে, যা হলো ০৩৩-২৩৩৫ ৯৫০৩। এছাড়া সাধারণ মানুষ www.westbengal.census.gov.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং পূর্বতন সরকারের নীতিহীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও তিনি সরাসরি পূর্বতন শাসনব্যবস্থা ও তৎকালীন মুখ্যসচিবকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, “এটি কোনো ক্যাবিনেট স্তরের বিষয় ছিল না, ছিল সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক রেকর্ড হলো, তৎকালীন মুখ্যসচিব এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও রাজনৈতিক সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় বসেছিলেন। আগের সরকারের এই গোয়ার্তুমির খেসারত দিতে হচ্ছে রাজ্যকে।”
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এই রাজ্যের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। পূর্বতন সরকারের অনীহার কারণে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হয়নি, যার ফলে বহু অংশে এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর এই সুযোগেই অবাধ অনুপ্রবেশের জেরে রাজ্যের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস আজ মারাত্মকভাবে বদলে গিয়েছে।
জনগণনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যাতে কোনো প্রকার ভীতি বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে এদিন অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সেন্সাসের সঙ্গে রাজনীতি, দল বা জাতপাতের দূরদূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা।
অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেন্সাসের নাম শুনেই বহু অবৈধ বাংলাদেশি ইতিমধ্যেই রাজ্য ছেড়ে পালাচ্ছে। বর্তমানে যারা হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছে, তারা কেউই কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারছে না। তবে এই মাটির বৈধ ও স্থায়ী নাগরিকদের বিন্দুমাত্র শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

