সামান্য ছাগল চুরির সন্দেহ, আর তাতেই প্রাণ গেল নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের। ঘটনাটি ঘটে, ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার তিরিং থানার রায়রঙ্গপুরে। সেই গ্রামের গ্রামবাসীরা লাঠি-সোঁটা দিয়ে কিশোরকে পিটিয়ে মারে। মৃত কিশোরের নাম সম্বিৎ বিনধানি (১৫)। এই ঘটনায় তাঁর সঙ্গী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সেও কিশোর। নৃশংস এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার দুপুরে ওড়িশার তিরিং থানা এলাকার ইন্দাখোলি হেরোগোডা গ্রামে ঘটে এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা। নবম শ্রেণির ছাত্র সম্বিৎ ও তার তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে ওই গ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের দেখে গ্রামবাসীদের মনে হয় তারা ছাগল চুরি করতে এসেছে। মুহূর্তের মধ্যে ‘চোর-চোর’ চিৎকারে তাদের ঘিরে ধরে একদল উন্মত্ত জনতা। দুজন প্রাণভয়ে পালিয়ে বাঁচলেও ধরা পড়ে যায় সম্বিৎ ও তার এক সঙ্গী।
এমনকি তাদের বাইকটিও আগুনে পুড়িয়ে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে কিশোরের পরিবার তিরিং থানায় অভিযোগ খুনের মামলা দায়ের করে বলে জানিয়েছে তিরিং থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ প্রশান্ত জেনা। এখনও পর্যন্ত ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
রায়রঙ্গপুরের এসডিপিও বীরেন্দ্র কুমার সেনাপতি জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ গিয়ে দেখে, গ্রামবাসীদের বেধড়ক মারধরে দুই কিশোরই গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝারানডিহি হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাদের রায়রঙ্গপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর সম্বিৎ নামক ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য কিশোরটির চিকিৎসা চলছে এবং তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
https://twitter.com/i/status/2028833585730617503

