কলকাতা: বিনোদন জগতে শোকের ছায়া যেন কাটতেই চাইছে না। অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক নক্ষত্রপতন ঘটল টলিউডে। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬ সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। রাহুলের প্রয়াণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও এক তরুণ সহকর্মীকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা স্টুডিও পাড়া।
প্রণব চট্টোপাধ্যায় ছোটপর্দার অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রতিভাবান একজন মুখ ছিলেন। বিশেষ করে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘নেতাজী’-তে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। এছাড়াও ‘তেঁতুল পাতা’, ‘কাদম্বিনী’ এবং ‘ভগবান দাস’-এর মতো ধারাবাহিকে তাঁর সাবলীল অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল । সম্প্রতি কালার্স বাংলার ‘বসন্ত বিলাস মেসবাড়ি’-তেও তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। একজন দক্ষ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর একটি আলাদা পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল।
তবে এই অকাল মৃত্যুর আড়ালে উঠে আসছে এক করুণ জীবনযুদ্ধের কাহিনী। সহকর্মীদের একাংশের দাবি, প্রণব দীর্ঘদিন ধরেই কাজ না থাকায় প্রচণ্ড মানসিক ও আর্থিক চাপের মধ্যে ছিলেন। অভিনেত্রী অলকানন্দা গুহ সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, প্রণব কাজের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন এবং বেকারত্বজনিত হতাশায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি বিবাহিত এই অভিনেতার কাঁধে ছিল সংসারের গুরুদায়িত্ব, যা তাঁকে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। গ্ল্যামার দুনিয়ার আড়ালে শিল্পীদের এই অনিশ্চয়তা ও মানসিক সংকটের বিষয়টি প্রণবের প্রয়াণে আবারও বড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।
