বিহারের রাজনীতিতে কি তবে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান হতে চলেছে? জল্পনা সত্যি হলে, কুর্সি ছেড়ে এবার দিল্লির পথে পাড়ি দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। বুধবার সকাল থেকেই পাটনার রাজনৈতিক অলিন্দে এই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আগামীকাল ৫ মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়নের শেষ দিনেই মিলতে পারে চূড়ান্ত উত্তর। এনডিএ শিবিরের সূত্রমতে, নীতীশ ইস্তফা দিলে বিহারের মসনদে বসতে পারেন বিজেপির কোনো হেভিওয়েট নেতা। আর তেমনটা হলে, ইতিহাসের পাতায় নাম উঠবে বিহারের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর।
গত ১ মার্চ ৭৫ বছরে পা দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দের শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বড় কোনো ‘সম্মানজনক’ পদে যাওয়ার কথা বললেও যাননি তিনি। তবে এবার নীতীশ সেই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে তিনি দিল্লির দরবারে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রিত্ব বা সাংবিধানিক পদ পেতে পারেন মনে করেছেন অনেকেই।
যদিও বর্তমানে বিহার বিধানসভায় বিজেপিই একক বৃহত্তম শক্তিধর দল। তাই নীতীশ কুমার ইস্তফা দিলে স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি দাবি করবে গেরুয়া শিবির। এই দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্রাটের হাত ধরেই বিহারে প্রথমবার খাতা খুলতে পারে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়াও অন্যদিকে, নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমারের সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন বলে অনেকের মনে দানা বাঁধছে। একাংশের অনুমান করছেন, নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় গেলে এবং নিশান্তকে সামনে রেখে রাজনীতি চললে জেডিইউ (JDU) আগের মতো শক্তিশালী থাকবে না। জেডিইউ-এর এই সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই হাতিয়ার করে বিহারের শাসনভার পাকাপাকিভাবে নিজেদের কবজায় নিতে পারে বিজেপি।
উল্লেখ্য, নীতীশ কুমারকে ঘিরে বিহারের রাজনীতিতে বারবার পাল্টি খাওয়ার রেকর্ড থাকলেও, এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। বয়স এবং জোটের চাপের কাছে কি শেষমেশ নতিস্বীকার করবেন তিনি নিতীশ? না কি মনোনয়নের শেষ মুহূর্তে আরও এক চমক অপেক্ষা করছে?

