বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বাবা–মা একসময় সন্তানদের বড় করে তুলতে এবং যোগ্য মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজেদের সুখ–স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দ বিসর্জন দেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যাঁদের সবচেয়ে বেশি দরকার সন্তানদের সঙ্গে থাকা, বাস্তবে সেইসব বাবা-মায়েরা আজ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।
এর ফলে দেখা যায় শেষ বয়সে অনেক মা-বাবারই ঠাঁই হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। ক্যারিয়ারের ইঁদুরদৌড়ে সামিল হয়ে নিজের জন্মদাতার ভরণপোষণে গাফিলতি করছেন অনেক সন্তানই। সমাজের এই ক্ষত সারাতে এবার কড়া দাওয়াই দিল তেলঙ্গানা সরকার। রোববার তেলঙ্গানা বিধানসভায় পাস হল এক ঐতিহাসিক বিল। নতুন এই আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি বা বেসরকারি কর্মচারী যদি তাঁদের মা-বাবার সঠিক যত্ন না নেন, তবে তাঁদের বেতন থেকে সরাসরি টাকা কেটে নেওয়া হবে। এবং সেই টাকা পৌঁছে যাবে অবহেলিত মা-বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। বাবা মায়ের অবহেলা করলে এতে বেসরকারি কর্মীদের পাশাপাশি এমএল ও এমপি দেরও কাঁটা যাবে বেতন।
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি এদিন বিধানসভায় ‘তেলঙ্গানা এমপ্লয়িজ অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড মনিটরিং অফ পেরেন্টাল সাপোর্ট বিল, ২০২৬’ পেশ করেন। বিলটি পেশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী আবেগতাড়িত স্বরে বলেন, “মা-বাবাকে দেখাশোনা করা শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, এটি একটি নৈতিক কর্তব্য। কিন্তু যখন সেই কর্তব্য লঙ্ঘিত হয়, তখন রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়ে।”
জানা যায়, যদি কোনও মা-বাবা অভিযোগ করেন যে তাঁদের সন্তান তাঁদের ভরণপোষণ করছেন না, তবে তদন্ত সাপেক্ষে ওই কর্মীর মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সরাসরি কেটে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা নিয়োগকারী সংস্থা সেই টাকা কেটে নিয়ে সরাসরি অভিযোগকারী মা-বাবার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে।

