স্কুল হোক শিক্ষার নিরাপদ ঠিকানা, প্রচারের মঞ্চ নয়। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল তামিলনাড়ু সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষা দপ্তরের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনো সংগঠনের ব্যক্তি বা নেতা ও কর্মীরা স্কুলের চৌহদ্দিতে প্রবেশ করতে পারবে না। মূলত ক্যাম্পাসে কোনো ধরণের দলীয় প্রভাব বা প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে সরকার এই কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে।
রাজ্যের স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী এ. রাজমোহন (A. Rajmohan) জানিয়েছেন যে, কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা ক্লাস চলাকালীন স্কুলের ভেতরে গিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো যোগাযোগ বা মেলামেশা করতে পারবেন না। এখন থেকে স্কুল প্রাঙ্গণে শুধুমাত্র পূর্বনির্ধারিত সরকারি অনুষ্ঠান বা শিক্ষামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা যাবে, কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় এজেন্ডা সেখানে চালানো যাবে না।
সম্প্রতি রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী এস. কীর্তনা একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ছাত্রীদের পড়াশোনার মান যাচাই করতে কয়েকটি ইংরেজি প্রশ্ন করেন। এক ছাত্রী উত্তর দিতে না পারায় উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি মন্তব্য করেন, শিক্ষার্থীরা সাধারণ ইংরেজি প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারছে না। পাশাপাশি, শ্রেণির পিছনের সারিতে বসা পড়ুয়াদের ইংরেজি দক্ষতা নিয়েও তাঁর মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দেয়।
পাশাপশি শাসক দলের কয়েকজন কর্মীর স্কুলে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বা রিল বানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এই ধরনের ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্কুল শিক্ষা দপ্তর কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। এখন থেকে শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক নেতা, কর্মী বা বাইরের কোনো ব্যক্তি স্কুলে ঢুকতে পারবে না।
