তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় পদ পেলেন তিন প্রাক্তন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক। বৃহস্পতিবার রাতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি পশ্চিমবঙ্গের তিনটি শূন্য রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনের জন্য তাঁদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার দিনই রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন এই তিন নেতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক শীর্ষ রাজ্য নেতা। তাঁদের গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দলে স্বাগত জানানো হয়।
বিজেপির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইককে প্রার্থী করা হয়েছে। বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংহের স্বাক্ষরিত ওই তালিকা বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশ করা হয়।
রাজ্যসভার এই উপনির্বাচনে আগামী ২৪ জুলাই ভোটগ্রহণ ও ভোটগণনা হবে। বিধানসভায় বর্তমান সংখ্যার নিরিখে বিজেপির এই তিন প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। কারণ, এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। কিন্তু পরে তিনি বলেন, এই তিন নেতাকে দলে নেওয়া একটি “ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত” এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
এছাড়াও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির রাজ্যসভায় সাংসদের সংখ্যা ৩। এই উপনির্বাচনে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক জয়ী হলে সেই সংখ্যা বেড়ে ৬ হবে।
মজার বিষয়, এই তিনজনই যে আসনগুলিতে এবার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, সেগুলিই আগে তৃণমূলের হয়ে তাঁদের দখলে ছিল। সুখেন্দুশেখর রায় এবং প্রকাশচিক বরাইকের রাজ্যসভার মেয়াদ ১৮ আগস্ট, ২০২৯ পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। অন্যদিকে, সুস্মিতা দেবের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২ এপ্রিল, ২০৩০। মাঝপথে পদত্যাগ করার ফলে ওই আসনগুলিতে উপনির্বাচন হচ্ছে। এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে একই আসনে তাঁরা ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচিত হলে এবং ভবিষ্যতে মাঝপথে পদত্যাগ না করলে, তাঁরা যথাক্রমে ১৮ আগস্ট, ২০২৯ এবং ২ এপ্রিল, ২০৩০ পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
