বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) সম্প্রতি একটা নতুন নিয়ম চালু করেছে, যার ফলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, জন্মস্থান বা প্রতিবন্ধকতার কারণে বৈষম্যের স্বীকার হতে হয় তা পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে। এই নতুন আইন ‘প্রমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস, ২০২৬’।
এর লক্ষ্য সমাজের সব শ্রেণির জন্য সমান, নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে এমনটাই জানানো হয়েছে। যদিও জানা গেছে এই নিয়ম ২০১২ সালের পুরোনো অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন রুলের আপডেটেড ভার্সন, যাতে এবার ওবিসি-দেরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদেরও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইউজিসির তরফ থেকে নতুন বিধি জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ইকুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার (EOC) খুলতে হবে। পাশাপাশি ইকুইটি কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটির প্রধান হবেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান (যেমন উপাচার্য বা অধ্যক্ষ)। কমিটিতে এসসি, এসটি, ওবিসি, মহিলা এবং প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধি থাকবে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে, যাতে যে কেউ ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারে। অভিযোগকারীর নাম গোপন রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন, অভিযোগ এলে দ্রুত তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোন প্রতিষ্ঠান নিয়ম না মানে ইউজিসি থেকে তাদের স্বীকৃতি বাতিল করার কথা বলা হয়েছে।
কেন এমন নিয়ম আনার প্রয়োজন পড়ল, তা স্পষ্ট করেছে ইউজিসি নিজেই, মূলত গত পাঁচ বছরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ ধারাবাহিক ভাবে বেড়েই চলেছে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে যেখানে অভিযোগের সংখ্যা ছিল ১৭৩টি, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩৭৮টি। মোট এক হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে।
তবে এখান থেকেই বিতর্কের আসল ঝড় শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের দাবি উঠেছে যে, এই নতুন বিধি সাধারণ শ্রেণির (অনারক্ষিত) মানুষদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। কেউ কেউ বলছেন, নিয়মটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যেন উচ্চবর্ণের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সহজ হয়ে যায়। এই নিয়মবিধিকে ঘিরে সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লিতে ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (UGC)-এর সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। নিয়ম বাতিলের দাবিতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ইউজিসি চত্বর।প্রতিবাদকারীরা বলছেন, বিধিতে শুধু সংরক্ষিত শ্রেণির অভিযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, সাধারণ শ্রেণির জন্য কোনো সমান সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। ফলে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, এই নিয়মে কোনও ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে অন্যায় বা বৈষম্য করা হবে না। তিনি বলেন, কেউ যেন আইনের ভুল ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকেও সরকার নজর রাখবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতেই এই নিয়ম আনা হয়েছে এবং তা ন্যায্যভাবেই কার্যকর করা হবে।

