আমেরিকার ‘অনুমতি’ ছাড়া রাশিয়ান তেল কিনতে পারছে না ভারত। মোদী সরকারকে নিতে হলো ৩০ দিনের ওয়েভার এদিন নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একথা জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তিনি আরও জানান এতদিন রাশিয়ার জ্বালানি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, অবশেষে তা শিথিল করা হয়েছে।
পারস্য উপসাগরে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার অজুহাতে ভারতের রিফাইনারিগুলোকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য মাত্র ৩০ দিনের অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, এটা খুবই স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ। এর ফলে রাশিয়ার সরকারের কাছে খুব বেশি টাকা যাবে না। এছাড়াও এটি শুধুমাত্র সেই সব তেলের উপর কার্যকর হবে যেগুলো ইতিমধ্যে সমুদ্রপথে জাহাজের উপর লোড করা হয়েছে। নতুন করে তেল কেনার ক্ষেত্রে এই ওয়েভার প্রযোজ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই স্টপ-গ্যাপ বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েছে বলে জানায় আমেরিকা। এর ফলে ভারতের রিফাইনারিগুলো বর্তমানে এক প্রকার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। একদিকে নিজেদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, অন্যদিকে আমেরিকার এই কঠোর নজরদারি এই দুইয়ের মাঝে মোদি সরকারকে পড়তে হচ্ছে চিন্তায়।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে বিশ্বের তেল সরবরাহে চাপ পড়েছে। ইরান বিশ্বের জ্বালানিকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলে আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলিকে নিরাপত্তা দেবে। উল্লেখযোগ্য যে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই এই প্রণালী হয়ে পরিবাহিত হয়।
তবে এই ঘোষণায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে ভারতে। বিরোধী শিবির সহ অনেকে প্রশ্ন তুলছেন সার্বভৌম দেশ হিসেবে ভারতকে কেন আমেরিকার ‘অনুমতি’ নিতে হচ্ছে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে? অনেকেই বলেছেন “এটা কি মোদী সরকারের বিদেশনীতির ব্যর্থতা? আমরা কি এখন আমেরিকার অনুমোদন ছাড়া কিছু করতে পারি না?”
যদিও এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘পারমিশন’ নেওয়ার ঘটনা ভারতের স্বাধীন জ্বালানি নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।


