অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৈরি করা হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ৩৮৬ জনকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে সিংহভাগই বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক। ভারতে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং ধৃত বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গত বছরের গাইডলাইন মেনেই পশ্চিমবঙ্গের ১১টি পুলিশ জেলায় এই অস্থায়ী আটক কেন্দ্রগুলি চালু করা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে নতুন ধৃতদের পাশাপাশি যে সমস্ত বিদেশি নাগরিকের জেলের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, অথচ আইনি জটিলতায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি, তাঁদেরও ঠাঁই হয়েছে এই হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের এই কেন্দ্রগুলিতে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। এই নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে তাঁদের পরিচয় যাচাই এবং প্রত্যর্পণের যাবতীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সম্প্রতি রাজ্য প্রশাসনের তরফে এই সমস্ত কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারি এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে এবং জেলাগুলিকে বিশেষ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
সরকারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অনুপ্রবেশকারী আটকে রাখার ক্ষেত্রে সংখ্যার বিচারে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পুলিশ জেলা (Basirhat PD)। সীমান্তবর্তী এই একটি জেলাতেই মোট ৩৩৫ জনকে আটকে রাখা হয়েছে, যা রাজ্যের মোট সংখ্যার প্রায় ৮৬ শতাংশ। বসিরহাটের তেঁতুলিয়া পাথরসাঠি, চারঘাট ফ্লাড সেন্টার এবং মিডিয়া সুবাসনগর ফ্লাড সেন্টার এই তিনটি জায়গাকে হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে ধৃতদের মধ্যে ১৪৮ জন পুরুষ, ৯৯ জন মহিলা এবং ৮৮ জন শিশু রয়েছে।
বসিরহাটের পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা (Murshidabad PD)। সেখানকার ভগবানগোলার স্বপন নগর মার্কেট কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে ১৯ জন ধৃতকে, যাঁদের সকলেই পুরুষ। এ ছাড়া মালদহের কর্মতীর্থে ৯ জন তারমধ্যে ৩ জন মহিলা ও ৬ জন শিশু এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের রামপুর কর্মতীর্থে ৮ জনের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলা রয়েছেন।
অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যে বারুইপুর পুলিশ জেলার কর্মতীর্থে ৫ জন এর মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা এবং বারাসত পুলিশ জেলার deganga থানায় ৩ জন রয়েছেন। কোচবিহারের দিনহাটার ‘আপনঘর হল’ এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার লালগোলার ‘পদ্মা ভবন’ এই দুই কেন্দ্রে ২ জন করে অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে। অন্য দিকে সুন্দরবন পুলিশ জেলার লক্ষ্মীকান্তপুর কমিউনিটি হলে ১ জন শিশু, বনগাঁর ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হোম’ এ ১ জন পুরুষ এবং কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ভীমপুর পঞ্চায়েত কমিউনিটি হলে ১ জন পুরুষকে রাখা হয়েছে।

