রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তার আগে চলছে স্ক্রুটিনি পর্ব। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত ১৩টি নথির বাইরে কোনও নথিই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি সরকারি প্রকল্পের নথিও যেমন ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY-G)’, ‘ইন্দিরা আবাস যোজনা (IAY)’ বা রাজ্যের ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)’ এসবের অধীনে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তার অনুমোদনপত্রও SIR এ গ্রহণ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
দুই দিন আগেই শেষ হয়েছে SIR এর শুনানি। অনেকেই সেখানে জমা দিয়েছিলেন আবাস প্রকল্প সংক্রান্ত নথি। আগে কমিশনের ২৭.১০.২০২৫ তারিখের নির্দেশিকায় “সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জমি বা বাড়ি বরাদ্দ সনদ”কে নির্দেশাধীন নথি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক সহায়তার স্যাংশন লেটারকে নির্দিষ্ট নথি হিসেবে ধরা হয়নি। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে যাঁরা এই নথিকে মূল প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছেন, তাঁদের নাম কি চূড়ান্ত বা ফাইনাল ভোটার তালিকায় থাকবে? নাকি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে?
এদিকে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট) নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রথমে জানানো হয়েছিল এটি গ্রহণযোগ্য নয়। পরে শুনানির শেষ দিনে জানানো হয়, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমা শাসক কর্তৃক জারি করা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে। এই পরিবর্তিত অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
রাজ্যের শাসক দল তথা তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কমিশন ও বিজেপিকে একসূত্রে কাজ করছে। সিইও দফতরে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন জানিয়েছে, এই নির্দেশ কঠোর ভাবে পালন করতে হবে।
আনিসা জেবার লেখা


