নির্বাচন দোরগোড়ায় কড়া নাড়লেও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা ঘিরে ঘনীভূত হওয়া ধোঁয়াশা কাটার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া বা সন্দেহের তালিকায় থাকা নিয়ে যে আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে তা এক নতুন মোড় নিয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে কিংবা যাঁদের পরিচয় যাচাই-সাপেক্ষ বা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম ফিরে পেতে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন SIR প্রক্রিয়ার পর রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে মোট প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে, যা জনমনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে একটি বড় অংশ প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষকে ‘যাচাই-সাপেক্ষ’ বা ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করায় তাঁদের নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ভোটের মুখে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম সংশয়ের তালিকায় থাকা এবং তাঁদের আইনি লড়াইয়ের পথে ঠেলে দেওয়া কার্যত এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার কেবল আইনি বিষয় নয়, এটি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল একটি অধিকার। এত বড় আকারে নথি যাচাইয়ের কাজে কিছু ভুল হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সেই ভুলের জেরে কোনও প্রকৃত ভোটার যাতে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে এ কথাও স্পষ্ট করে দেন আদালত।
এ দিনের শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। অন্য রাজ্যে আগে একই ধরনের সংশোধন প্রক্রিয়ায় পুরনো ভোটার তালিকাকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কেন নতুন করে নথি জমা দিতে বলা হল, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত। এই ভিন্ন পদ্ধতি নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন করে বিতর্ক ।
তবে আপাতত বড় কোনও হস্তক্ষেপে যেতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। সেখানেই প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা করে শুনানি হবে এবং নথি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যদিও এখন প্রশ্ন, সময়ের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা কতটা সম্ভব। ভোটের আগে তা কতটা চাপ তা বলাই বাহুল্য। অনেকের আশঙ্কা, সময়ের অভাবে বহু মানুষ হয়তো এ বার ভোট দেওয়ার সুযোগই পাবেন না বলে মনে করা হচ্ছে।

