রোগীদের জন্য ধর্মীয় স্লোগান দিলে ফি ছাড়ের ঘোষণা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রকাশ কুমার হাজরা। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি জানান, কোনো রোগী তার চেম্বারে এসে ‘জয় শ্রী রাম’ বললে ভিজিটে ৫০০ টাকা ছাড় পাবেন। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে তিনি এই ছাড়ের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেন। ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় বাংলা’ একসঙ্গে বললে ১০০০ টাকা এবং ‘জয় মা কালী’, ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় বাংলা’ তিনটি স্লোগান একসঙ্গে বললে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাবেন রোগিরা। এই সুবিধা অবশ্য শুধুমাত্র তাঁর নিজস্ব প্রাইভেট চেম্বারেই প্রযোজ্য, হাসপাতালে নয়। পোস্টারে ডা. হাজরাকে বিজেপির উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে দেখা গেছে।
একজন চিকিৎসকের পেশাগত জায়গায় এমন ধর্মীয় শর্ত জুড়ে দেওয়ার বিষয়টিকে চিকিৎসা পরিষেবার নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন চিকিৎসক মহলের একাংশ, যার ফলে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। এবং এই পোস্টটি ভাইরাল হতেই দেশের বৃহত্তম চিকিৎসক সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) ইতিমধ্যে তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছে। এবং আইএমএ ডা. হাজরাকে তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলেছে। অন্যথায় IMA বলেছে registration কেড়ে নেবে বলে জানান খোদ নিজেই ডাক্তার হাজরা।
এই বিতর্কের মধ্যেই ডা. হাজরা নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, “ডাক্তারিই আমার রাজনৈতিক প্রচারের অস্ত্র।” তাঁর বক্তব্য, ‘জয় শ্রী রাম’ কে তিনি ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবেই দেখেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি র আদর্শে বিশ্বাসী হিসেবে তিনি নিজেকে ‘রাষ্ট্রবাদী’ নাগরিক মনে করেন। সেই কারণেই নিজের পেশার মাধ্যমে তিনি সমাজে বার্তা দিতে চাইছেন। তিনি আরও যুক্তি দেন, বিধানচন্দ্র রায় চিকিৎসক হয়েও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং ডা. সান্তনু সেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হয়েছেন, তাহলে তাঁর এই প্রচারে ভুল কোথায়?
এদিকে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ ও চিকিৎসক ডা. সান্তনু সেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, “চিকিৎসা পেশা একটি মহৎ পেশা। এমবিবিএস পাস করার পর প্রত্যেক চিকিৎসককে হিপোক্রেটিক ওয়েথ (হিপোক্র্যাটিক শপথ) নিতে হয়, যেখানে তিনি জীবনের বিনিময়েও সকল রোগীকে বিনা বৈষম্যে সমান চিকিৎসা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এই পেশাকে কখনোই রাজনৈতিক বা ধর্মীয় চশমায় দেখা উচিত নয়।”


