আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প: এখন বাংলায় ৫ লক্ষ টাকার ফ্রি চিকিৎসা! কারা এবং কীভাবে পাবেন এই সুবিধা? জানুন বিস্তারিত

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
4 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (AB-PMJAY) চালু করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

এর ফলে এখন থেকে বাংলার কোটি কোটি মানুষ বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।  আয়ুষ্মান ভারত আসলে ভারত তথা বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে উন্নত মানের চিকিৎসা প্রদান করা।  এই কার্ড থাকলে কোনো অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে নিজের পকেট থেকে কোনো টাকা দিতে হয় না।  এই প্রকল্পের সবথেকে বড় সুবিধা হলো, আপনার যদি আগে থেকেই কোনো রোগ থাকে, তবে কার্ড পাওয়ার প্রথম দিন থেকেই সেই রোগের চিকিৎসা মিলবে এবং এতে কোনো ‘ওয়েটিং পিরিয়ড’ নেই। 

এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৩ দিন আগে থেকে শুরু করে ছাড়া পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত ওষুধ, ইনজেকশন এবং যাবতীয় পরীক্ষার খরচ এই প্রকল্পের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে।  হার্ট অপারেশন, ক্যান্সার, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট ও ব্রেন সার্জারির মতো প্রায় ১৯০০টিরও বেশি জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।  সবথেকে বড় সুবিধা হলো পোর্টেবিলিটি; অর্থাৎ এই কার্ড থাকলে আপনি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দিল্লি, মুম্বই বা বেঙ্গালুরুসহ ভারতের যেকোনো রাজ্যের তালিকাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন।

কেন্দ্র সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, মূলত গরিব ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত, যাদের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম এবং যাঁরা কাঁচা বাড়িতে বা এক কামরার ঘরে থাকেন।  তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি জনজাতি (ST) এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাবেন।  এছাড়াও সত্তর বছর বা তার বেশি বয়সের সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এই সুবিধা পাবেন।  এক্ষেত্রে তাঁদের আয়ের কোনো সীমা নেই এবং ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ৭০ ঊর্ধ্ব সবাই বছরে আলাদাভাবে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।  তবে মনে রাখবেন, যাঁদের বাড়িতে চার চাকার গাড়ি বা মাছ ধরার নৌকা আছে অথবা বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি, তাঁরা সাধারণত এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন।

তালিকায় নাম চেক করতে আপনাকে প্রথমে আয়ুষ্মান ভারতের অফিসিয়াল বেনিফিশিয়ারি পোর্টাল (beneficiary.nha.gov.in) অথবা Ayushman App-এ যেতে হবে । সেখানে নিজের মোবাইল নম্বর ও ওটিপি দিয়ে লগইন করার পর আপনার রাজ্য, জেলা এবং প্রকল্পের নাম (PMJAY) সিলেক্ট করতে হবে।  আপনি আপনার আধার নম্বর, রেশন কার্ড নম্বর (Family ID) অথবা এলাকার নাম দিয়ে তালিকায় নাম খুঁজতে পারেন।  তালিকায় নাম থাকলে ই-কেওয়াইসি করার জন্য নামের পাশে থাকা অপশনে ক্লিক করে আধার ওটিপি বা ফেস অথেন্টিকেশন সম্পন্ন করতে হবে এবং একটি পরিষ্কার সচ্ছ ছবি আপলোড করতে হবে।  তথ্য সঠিক থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যেই কার্ডটি অ্যাপ্রুভ হয়ে যাবে এবং আপনি ডিজিটাল কার্ডটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

রাজ্য জুড়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই অনেকগুলো সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে যুক্ত করা হয়েছে।  সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বর্তমানে মোট ৭৮টি বিশেষায়িত হাসপাতালে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, যার মধ্যে ৩০টি সরকারি হাসপাতাল, ২৮টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ২০টি NABH স্বীকৃত বড় হাসপাতাল রয়েছে।

আপনার এলাকার কোন হাসপাতালে এই সুবিধা আছে তা দেখতে হলে ওয়েবসাইটের ‘Find Hospitals’ বিভাগে গিয়ে নিজের রাজ্য ও জেলা নির্বাচন করলেই তালিকা চলে আসবে।  তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন যে, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বর্তমানে নিজে থেকে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করার সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেই।  এই প্রকল্পের তালিকাটি মূলত ২০১১ সালের আর্থ-সামাজিক জাতিগত শুমারি এবং সরকারের বর্তমান রেশন কার্ডের তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছে।  সরকারি এই ডেটাবেসে যাদের নাম ইতিমধ্যে নথিভুক্ত আছে, কেবল তারাই রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে আয়ুষ্মান কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।  নতুন করে জনগণনা বা সরকার কর্তৃক ডাটাবেস আপডেট না করা পর্যন্ত তালিকার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের নাম এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আপাতত নেই।  এছাড়া আপনার নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) গিয়েও আপনার যোগ্যতা ও তথ্য যাচাই করে নিতে পারেন।

Ayushman Bharat App Download Link:- Download 

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।