তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন আপাতত খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। চোখের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। যদিও এদিন প্রথম দফার শুনানিতেই বড়সড় আইনি ধাক্কা খেলেন তিনি। আদালতের মতে, এ দেশেই চিকিৎসার উপযুক্ত এবং উন্নত পরিকাঠামো রয়েছে, যার কারণে বিদেশ যাওয়ার মতো কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
হাইকোর্টে শুনানির সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, এর আগেও অভিষেক বন্দোপাধ্যায় চোখের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন, তাই চিকিৎসার খাতিরে বর্তমান সময়ে তাঁর দ্রুত বিদেশ যাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আদালতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনও জানানো হয়। কিন্তু বিচারপতি এই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, “দেশে চিকিৎসা করার মতো পর্যাপ্ত ও আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে জরুরি শুনানির প্রয়োজন নেই।” এদিন মামলার পরবর্তী শুনানি জুলাই মাসের মাসিক তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে আদালত কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়ে আগামী সোমবার বিষয়টি ফের উল্লেখ করার সুযোগ দিয়েছে অভিষেককে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে কয়লা পাচার ও নিয়োগ দুর্নীতির মতো বেশ কিছু মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি (ED) ও সিবিআই (CBI)-এর নজরে রয়েছেন। আদালতের আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁর ওপর বিদেশযাত্রার ওপর কড়াকড়ি রয়েছে। সেই কারণেই প্রতিবার বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁকে আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এর আগে আদালতের রক্ষাকবচ ও বিশেষ অনুমতি নিয়ে তিনি দুবাই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। এবার তাঁর বিদেশ যাত্রা আপতত থমকে গেল।
উল্লেখ্য ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মুর্শিদাবাদে একটি দলীয় কর্মসূচি থেকে কলকাতায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়৷ ওই দুর্ঘটনায় চোখে গুরুতর চোট পান তিনি ৷ প্রথমে দেশের একাধিক হাসপাতালে এবং পরে বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করান তিনি ৷

