সম্প্রতি তামিলনাড়ুর কুডানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে বড় ধরনের তথ্য ফাঁসের দাবি উঠেছে। আন্তর্জাতিক র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ওয়ার্ল্ড লিকস (World Leaks) দাবি করেছে, তারা প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর সার্ভার থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের দাবি, মোট প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার ফাইলের মধ্যে কুডানকুলাম প্রকল্প সংক্রান্ত প্রায় ১৯ হাজার নথি ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করা নথিগুলোর মধ্যে কুডানকুলাম প্রকল্পের ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের নির্মাণকাজ-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে কুলিং ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার নকশা, কন্ট্রোল রুমের বিন্যাস, যন্ত্রপাতি পরীক্ষার নথি, সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং কিছু বিমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি, যাতে বলা যায় পরমাণু রিয়্যাক্টরের মূল প্রযুক্তি বা কোর সিস্টেমের তথ্য ফাঁস হয়েছে।
ঘটনার পর রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার জানিয়েছে, তাদের একটি থার্ড-পার্টি ডেটা সেন্টারে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই ডেটা সেন্টারের পরিষেবা দিচ্ছিল Yotta। সংস্থার দাবি, এটি একটি আংশিক তথ্য হ্যাক করে। বিষয়টি জানার পরই সরকারকে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কি কি তথ্য বাইরে গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংস্থাটি।
এই ঘটনার পর তদন্তে নেমেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা CERT-In এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCIL)। কীভাবে এই সাইবার হামলা হলো, কতটা তথ্য ফাঁস হয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
