শিক্ষিকা বা আইএএস যাই হোন, নারীদের আগে রান্না জানা উচিত, দক্ষ মা হওয়ারও পরামর্শ উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
প্রতীকী চিত্র
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের একটি মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।  কানপুরের ছত্রপতি শাহুজি মহারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, একজন নারী শিক্ষক, আইএএস অফিসার বা অন্য যে কোনও পেশায় সফল হোন না কেন, তার আগে তাঁকে একজন দক্ষ মা এবং পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্য হওয়ার শিক্ষা নিতে হবে।  তাঁর মতে, পেশাগত ব্যস্ততার কারণে কোনওভাবেই যেন পরিবার উপেক্ষিত না হয়।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

আনন্দীবেন প্যাটেল বলেন, প্রত্যেক নারীর রান্না করা, পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার পরিবেশন করা এবং সংসারের দায়িত্ব সামলানোর মতো বিষয়গুলি জানা উচিত।  একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিয়ের পর কোনও মেয়েরই পড়াশোনা বন্ধ করা উচিত নয়।  বরং নিজের শিক্ষা ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়ন এবং সমাজ গঠনের কাজে ব্যবহার করা উচিত।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশেও বার্তা দেন।  তাঁর কথায়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সময় সন্তানরা কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং তাদের জীবনযাত্রা কেমন এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত নজর রাখা উচিত।  ছাত্রজীবনের ছোট ছোট ভুল ভবিষ্যতের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বক্তৃতায় রাজ্যপাল সমাজে বাড়তে থাকা গার্হস্থ্য হিংসা, নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং মাদকাসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।  তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলির আশপাশে মাদক সরবরাহের অভিযোগও সামনে এসেছে, যা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।  তাঁর মতে, শুধু ডিগ্রি বা নম্বর অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না।  শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধও গড়ে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজে যদি শিক্ষার হার বাড়লেও গার্হস্থ্য হিংসা ও নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ কমে না, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।  তাই শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধের শিক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, আনন্দীবেন প্যাটেলের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।  উল্লেখ্য, এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোট ১ লক্ষ ৭ হাজার ৭১৩ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়।  পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছিলেন ছাত্রী, যা অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক‌ও বটেই।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।