সোমবার থেকে কার্যকর ‘গুন্ডা দমন আইন’! কী থাকছে নতুন আইনে, কেন উঠছে বিতর্ক?

সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত আটক, বিশেষ ক্ষেত্রে কারণও নাও জানাতে পারে প্রশাসন‌।

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
4 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

আগামী সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬।  যা‌ সাধারণ মানুষের কাছে এটি ইতিমধ্যেই ‘গুন্ডা দমন আইন’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। গত শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিধানসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর রাজ্যপালও অনুমোদন দিয়েছেন।  তাই আগামী সোমবার থেকেই এই আইন কার্যকর করা হবে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন এই আইন চালু হলে রাজ্যে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, দাঙ্গা, ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, পুলিশের উপর হামলা কিংবা সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে আরও দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।  তাঁর কথায়, আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টি বা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না।  বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গত ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬ পাস হয়।  এরপর রাজ্যপালের সম্মতি মেলায় সেটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে।  সরকারের দাবি, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গুরুতর অপরাধমূলক কার্যকলাপ রুখতেই এই আইন আনা হয়েছে।

এই আইনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention)।  অর্থাৎ, প্রশাসনের কাছে যদি মনে হয় কোনও ব্যক্তি সমাজবিরোধী কাজে জড়িত বা ভবিষ্যতে এমন কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে তাঁকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটক রাখা যেতে পারে।  এই নির্দেশ জারি করতে পারবেন রাজ্য সরকার, পুলিশ কমিশনার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা সরকার মনোনীত ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও পুলিশ আধিকারিক।

এইয়আইনে বলা হয়েছে, সাধারণভাবে আটক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কারণ জানিয়ে নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হবে।  তবে জনশৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা জনস্বার্থের প্রশ্নে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আটক করার নির্দেশ দিতে পারবে। এমন ক্ষেত্রে আটকের কারণ বা তথ্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ না করারও সুযোগ রাখা হয়েছে।  যদিও এই ধরনের নির্দেশ ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের অনুমোদন পেতে হবে, নইলে তা কার্যকর থাকবে না।

এছাড়াও আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনে তল্লাশি চালানো, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথি বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং আটক ব্যক্তির মামলা একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের মাধ্যমে পর্যালোচনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে এই বিল পাস হবার আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ।  তাঁদের অভিযোগ, ‘সন্দেহ’ এর ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় কাউকে আটক রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।  সমালোচকদের মতে, আইনটি সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধিতা বা গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ হতে পারে।  যদিও রাজ্য সরকারের বক্তব্য, আইনটির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

গত শুক্রবার বহরমপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়েও কড়া বার্তা দেন।  তিনি জানান, বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার‘, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ-সহ একাধিক প্রকল্পে ৬০০ জন ভুয়া সুবিধাভোগীর খোঁজ মিলেছে।  ভুয়া জন্মসনদ বা সরকারি প্রকল্পে জালিয়াতির সঙ্গে কোনও সরকারি আধিকারিক জড়িত থাকলে, প্রয়োজনে বিডিও-সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

নতুন এই আইন কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সরকার আশাবাদী।  তবে সোমবার থেকে আইন কার্যকর হওয়ার পর এর বাস্তব প্রয়োগের দিকেই নজর থাকবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।