পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, ওয়েস্ট বেঙ্গল, ২০২৬ খসড়া বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি ৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত মেলার পর গতকাল শুক্রবার ১০ জুলাই রাজ্যের বিচার দফতর এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৪ এ উল্লেখিত নির্দেশমূলক নীতির আলোকে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে একটি অভিন্ন দেওয়ানি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আইনের আওতায় বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, দত্তক গ্রহণ, উত্তরাধিকার, উইল এবং সম্পত্তি বণ্টনের মতো ব্যক্তিগত দেওয়ানি বিষয়গুলিকে একটি একক আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার প্রস্তাব রয়েছে। তবে খসড়া বিলটি আইনি, সাংবিধানিক ও সামাজিক দিক থেকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করতেই এই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, প্রাক্তন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা (আইএএস), অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শত্রুঘ্ন সিং, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রধান সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ (সদস্য-আহ্বায়ক), অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. রত্না ভট্টাচার্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র, কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং সমাজকর্মী নির্মাল্য ভট্টাচার্য।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি কার্যকর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর বক্তব্য ছিল, “পশ্চিমবঙ্গে ইউনিফর্ম সিভিল কোড হবেই। এর জন্য যে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে, তা মেনেই সরকার এগোবে। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও অসমে যে পদ্ধতিতে কাজ হয়েছে, এখানেও সেই পথই অনুসরণ করা হবে।” সেই ঘোষণার পরই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়।
সূত্রের খবর, বিশেষজ্ঞ কমিটি খসড়া বিলটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সুপারিশ জমা দেওয়ার পর আগস্ট মাসের বিধানসভা অধিবেশনেই ইউসিসি সংক্রান্ত বিল পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত আইনে আদিবাসী বা তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়কে ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, যাতে তাঁদের প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতির উপর কোনও প্রভাব না পড়ে। এই বিলে মুসলিমদের জন্য আলাদা কোনও ছাড় বা অব্যাহতির কথা বর্তমানে বলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত কারা এই আইনের আওতায় থাকবেন বা ছাড় পাবেন, তা খসড়া বিলের চূড়ান্ত রূপ এবং বিধানসভায় পাস হওয়া আইনের ভাষার ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ড ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে ইউসিসি কার্যকর করেছে। এছাড়া গুজরাত, অসম-সহ আরও কয়েকটি রাজ্য একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।


