বিশ্বের বৃহত্তম স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থার দেশ ভারত। বর্তমানে দেশজুড়ে ১৪.৭১ লাখ স্কুলে ২৪.৬৯ কোটিরও বেশি পড়ুয়া পড়াশোনা করছে। তবে এই বিশাল শিক্ষাব্যবস্থার আড়ালে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এক চিত্র। নীতি আয়োগের (NITI Aayog) সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে দেশে প্রায় ৯৪ হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫টি সরকারি স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। একই সময়ে সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমেছে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ। ফলে দেশে মোট স্কুলপড়ুয়ার মধ্যে সরকারি স্কুলের পড়ুয়ার হার ২০০৫ সালের ৭১ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ সালে ৪৯.২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, এর আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সংসদে পেশ করা তথ্যে সরকারি স্কুলের আরও উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছিল। বলা হয়, দেশজুড়ে সরকারি স্কুলের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ১৩ হাজার হলেও, এর মধ্যে ৫,১৪৯টি সরকারি স্কুলে একজন ছাত্রছাত্রীও ভর্তি হয়নি। ছাত্রশূন্য এসব স্কুলের ৭০ শতাংশেরও বেশি তেলেঙ্গানা ও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে ছাত্রশূন্য সরকারি স্কুলের সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। তেলেঙ্গানায় ২,০৮১টি এবং পশ্চিমবঙ্গে ১,৫৭১টি সরকারি স্কুলে একজনও ছাত্র নেই। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শুধু কলকাতাতেই ২১১টি সরকারি স্কুলে কোনো ছাত্র ভর্তি হয়নি। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরে ১৭৭টি এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ১৪৭টি সরকারি স্কুলে ছাত্রসংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে।
নীতি আয়োগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, জন্মহার কমে যাওয়া, কম ছাত্রসংখ্যার স্কুলগুলোকে একত্র করা (স্কুল কনসলিডেশন) এবং অভিভাবকদের বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করানোর ক্রমবর্ধমান প্রবণতার কারণে সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ও ভর্তির হার কমেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি স্কুলের শিক্ষার মান, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষিকার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পড়ুয়াদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে আরও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তবে শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, সরকারি স্কুলে পড়ুয়া কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারের শিশু জীবিকার তাগিদে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নেমে পড়ে। আবার কোথাও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন, অভিভাবকদের অনীহা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি বাড়তি ঝোঁক, প্রযুক্তির অযথা ব্যবহার এবং অন্যান্য সামাজিক কারণও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ফলে সরকারি স্কুলে পড়ুয়া কমে যাওয়ার জন্য একক কোনো কারণকে দায়ী করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

