এবার আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ দিন দিল্লিতে আয়োজিত ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় তাঁর বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ রেখে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান রাজনৈতিক সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
আজ ২৬ এর ৫ আগস্ট, এর আগে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত ও দেশ ছাড়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য সাংবাদিক বৈঠক।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর অভিযোগ, দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা, গ্রেফতার ও দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তখনই সম্ভব, যখন সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। জনগণই ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানান বাংলাদেশের প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুযোগ ও পরিস্থিতি অনুকূল হলে বাংলাদেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব আদালতেই দেবেন।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে চলা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেছিল বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। পরে সেই বিধান দেশটির জাতীয় সংসদে অনুমোদন পেলে। তা আইনে পরিণত হয়, এরপর আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিই উঠে এসেছে।

