মোটর দুর্ঘটনা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টের বিচারপতি সচিন সিং রাজপুতের একক বেঞ্চ জানিয়েছে, আধার কার্ড কখনও জন্মতারিখ বা বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। আদালতের মতে, আধার কার্ড কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য হবে, জন্মতারিখ বা বয়সের প্রামাণ্য নথি হিসেবে নয়।
আদালতের বক্তব্য, মোটর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ মামলায় বয়স নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করে মৃত বা আহত ব্যক্তির বয়সের উপর। তাই শুধু আধার কার্ডে উল্লেখ থাকা জন্মতারিখের ভিত্তিতে বয়স নির্ধারণ করা যাবে না। আদালতের মতে, জন্ম শংসাপত্র, মাধ্যমিকের শংসাপত্র বা মার্কশিট এবং সরকারি নিয়মে স্বীকৃত অন্যান্য নথিই জন্মতারিখের বৈধ প্রমাণ। বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই নথিগুলিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
মামলাটি একটি সড়ক দুর্ঘটনাকে ঘিরে। মোটর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ ট্রাইব্যুনালের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে টাটা সুমো গাড়ির মালিক ও চালক ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। ওই দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হন আরও এক ব্যক্তি, যিনি একটি পা হারান। ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণের সময় মৃতদের বয়স নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই মামলার শুনানিতেই হাইকোর্ট জানায়, বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে আধার কার্ড নয়, জন্ম শংসাপত্র, মাধ্যমিকের শংসাপত্র এবং সরকারি নিয়মে স্বীকৃত অন্যান্য নথিকেই প্রাধান্য দিতে হবে।
একই সঙ্গে বিমা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও করেছে আদালত। হাইকোর্ট জানিয়েছে, বিমার প্রিমিয়াম জমা দিলেই বিমা কার্যকর হয়ে যায় না। বিমা পলিসিতে যে দিন ও সময় থেকে কভারেজ কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ থাকে, সেই সময় থেকেই বিমা বলবৎ হবে। ফলে ওই নির্ধারিত সময়ের আগে দুর্ঘটনা ঘটলে, শুধুমাত্র প্রিমিয়াম জমা পড়েছে এই যুক্তিতে বিমা সংস্থার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না।
