আজ বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বুধবার দুপুর ১টা থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। যাঁদের তথ্য ইতিমধ্যে আপলোড হয়েছে কিন্তু এখনও টাকা পৌঁছায়নি, তাঁদেরও আজ রাত বারোটার মধ্যেই টাকা পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের জন্য মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। প্রতিটি আবেদন যাচাই করার পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। ফলে ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারীকে যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হল শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের কাছেই এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কোনও যোগ্য আবেদনকারীকে বঞ্চিত করা হবে না। এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, ৩ জুন প্রথম পর্যায়ে ২৭ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও তথ্য আপলোডের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে বৃহৎ সংখ্যক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
উপভোক্তাদের সামাজিক শ্রেণি অনুযায়ীও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বুধবার যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তফসিলি জাতি (SC) সম্প্রদায়ের ২৬ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৫৫ জন মহিলা রয়েছেন। এছাড়া আদিবাসী (ST) সম্প্রদায়ের প্রায় ৫ লক্ষ মহিলা এই কিস্তির টাকা পেয়েছেন বলেও তিনি জানান।
এছাড়াও জাতি ভিত্তিতেও তথ্য প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৫৯ লক্ষ ৪ লক্ষ ৯৩ হাজার ১৩৯ জন (অর্থাৎ প্রায় ৫৯.৯৩ লক্ষ) মহিলা এই পর্যায়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা পেয়েছেন। পাশাপাশি দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাকার ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬৫৮ জন নেপালি-গোরখা মহিলা-র অ্যাকাউন্টেও টাকা পৌঁছে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন করা ৮ লক্ষ ১৫ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টেও ইতিমধ্যেই ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীন রয়েছে, তাঁদেরও এই প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য যে, শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার কাছে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তিনি আশ্বাস দেন, যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কিন্তু এখনও টাকা পাননি, তাঁদের অ্যাকাউন্টেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ পৌঁছে যাবে।

