রাজ্যে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার দিব্যাঙ্গ মহিলা রয়েছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষার ভাতা এবং অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা যাতে একটির কারণে অন্যটি বন্ধ না হয়ে যায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে যোগ্য দিব্যাঙ্গ মহিলা উপভোক্তারা দুই প্রকল্পের সুবিধাই একসঙ্গে পাবেন। অর্থাৎ, ১,৫০০ টাকার ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকাও তাঁদের দেওয়া হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তবে একই সঙ্গে উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, আগের সময়ে দিব্যাঙ্গ ভাতা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি ভুয়ো প্রতিবন্ধিতা শংসাপত্র তৈরি করে ভাতা নেওয়ার অভিযোগও প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। সেই কারণে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, সরকারি অর্থ যেন কোনও অযোগ্য বা ভুয়ো উপভোক্তার কাছে না যায়। বরং সেই অর্থের সুবিধা যাতে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দিব্যাঙ্গ মহিলাদের ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে উপভোক্তা তালিকার নির্ভুলতা এবং তথ্য যাচাই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এতদিন ১,০০০ টাকা করে পাওয়া বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার কথা জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে মহিলারা এই ১,৫০০ টাকার ভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তাঁরা চাইলে ১,৫০০ টাকার ওই ভাতা ছেড়ে ৩,০০০ টাকার অন্নপূর্ণা যোজনা নিতে পারবেন। অর্থাৎ, ১,৫০০ টাকার পরিবর্তে মাসে ৩,০০০ টাকা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এই বিষয়ে আগ্রহী উপভোক্তাদের নিকটবর্তী বিডিও অফিস বা পুরসভায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর উপভোক্তাদের সাহায্য করবে বলেও জানানো হয়েছে।

