রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক বাংলা সফর ঘিরে দানা বেঁধেছে আন্তঃরাজ্য রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি ‘অসম্মান’ প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কড়া ভাষায় চিঠি লিখলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনা কেবল এক ব্যক্তির নয়, বরং দেশের গোটা আদিবাসী সমাজের অপমান। এই মর্মে মমতাকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গত ৭ মার্চ উত্তরবঙ্গে ‘ইন্টারন্যাশনাল সাঁওতাল কনফারেন্স’-এ যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভেন্যু বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুর এলাকায় যেতে হয়। সেদিন সরাসরি রাষ্ট্রপতি নিজে থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন জানিয়েছে আসল জায়গাটি কনজেস্টেড ছিল, কিন্তু আমি গিয়ে দেখেছি সেখানে ৫ লক্ষ মানুষ সহজেই জড়ো হতে পারত। অনেক সাঁওতাল ভাই-বোন আসতে পারেননি। প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না… মমতা দিদি আমার ছোট বোনের মতো। জানি না আমার উপর কেন রাগ করেছেন। আমিও বাংলার মেয়ে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশা সরকার অভিযোগ তুলে বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রধানের এই সফরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে নূন্যতম শিষ্টাচারটুকুও পালন করা হয়নি। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নিজে আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে চিঠিতে লেখেন, “রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কেবল আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান নন, তিনি কোটি কোটি আদিবাসী ও অনগ্রসর মানুষের গর্ব। রাষ্ট্রপতির পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় তাঁর প্রতি যে অসম্মানজনক আচরণ দেখানো হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যা গোটা আদিবাসী সম্প্রদায়কে লজ্জিত করেছে।”
এই বিতর্কে অবশ্য নিজেদের অবস্থানে অনড় নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, শিলিগুড়ির ওই অনুষ্ঠানটি কোনও সরকারি কর্মসূচি ছিল না। এটি ছিল একটি বেসরকারি সংস্থার (ইন্টারন্যাশনাল সাঁওতাল কাউন্সিল) আয়োজন। তাঁর পাল্টা দাবি, প্রোটোকল রক্ষা করার দায়ভার ছিল আয়োজক এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর। রাজ্যকে রাজনৈতিকভাবে কালিমালিপ্ত করতেই বিজেপি রাজনীতি শুরু করেছেন বলে মনে করছে তৃণমূল শিবির।


