রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন সামনে, এছাড়াও একাধিক রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটের প্রস্তুতি। ঠিক এই মাহেন্দ্রক্ষণেই দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল আনলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, তামিলনাড়ুসহ মোট ৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নতুন রাজ্যপাল ও উপ-রাজ্যপাল (L-G) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই দলবদলে রাজ্যের শাসক দলের ভিতরে প্রশাসনিক কোন্দল শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা মাথায় রেখেই অভিজ্ঞ প্রশাসকদের ময়দানে নামাল কেন্দ্র। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সি. ভি. আনন্দ বোস আচমকা পদত্যাগ করেছেন। তিনি দিল্লিতে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবারই ইস্তফা জমা দিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তাঁর মতে, তিন বছর নিয়মিত দায়িত্ব পালন করায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, তবে এর পেছনে কোনো চাপ ছিল কি না তা স্পষ্ট নয়।
তাঁর পদত্যাগের পর সেখানে তামিলনাড়ু থেকে আর.এন. রবিকে আনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) পোস্ট করে জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে এই খবর দিয়েছেন। মমতা বলেছেন, “এই সিদ্ধান্তে আমি অবাক ও হতবাক। প্রথা অনুযায়ী আমার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি।”
এছাড়াও বাকি রদবদলের তালিকায় রয়েছে হিমাচল প্রদেশের বর্তমান গভর্নর শিব প্রতাপ শুক্লা, যিনি এবার তেলেঙ্গানা-র গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে জিষ্ণু দেব ভার্মা, যিনি আগে তেলেঙ্গানার গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকে মহারাষ্ট্র-এর নতুন গভর্নর হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে নন্দ কিশোর যাদবকে নাগাল্যান্ড-এর গভর্নর নিযুক্ত করা হয়েছে, আর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইয়েদ আতাহ হাসনাইন বিহার-এর গভর্নরের দায়িত্ব নেবেন।
লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবিন্দার গুপ্ত নতুন করে হিমাচল প্রদেশ-এর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এছাড়াও, কেরলের গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার সাময়িকভাবে তামিলনাড়ুর গভর্নরের দায়িত্বও পালন করবেন। এবং দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিনাই কুমার সক্সেনা‑কে লাদাখের নতুন লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর স্থলে ভারতের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত তারনজিত সিং সান্ধু আবাসিক দিল্লির নতুন এলজি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
প্রসঙ্গত, সামনেই ভোট, তাই নির্বাচন সময়সীমা ঘোষণার আগেই রাজভবনগুলোকে গুছিয়ে নিতে চাইছে কেন্দ্র। এছাড়া প্রতিটি নিয়োগের পেছনেই রয়েছে গভীর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্ক।

