দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। সোমবার বিধানসভার বহুল চর্চিত সই জাল-কাণ্ডের জল গড়াতেই এই নজিরবিহীন ও চরম পদক্ষেপ নিল জোড়া-ফুল শিবির। তৃণমূল সূত্রে খবর, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ইতিমধ্যেই তাঁদের ইমেল এবং হোয়াট্সঅ্যাপ মারফত সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বড় সিদ্ধান্তের কথা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও।
এই দুই বিধায়ক বাদ পড়ার পর তৃণমূলের শক্তি এখন দাঁড়িয়েছে 80 – 2 = 78-এ। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার দুপুরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে। বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করার সময় মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান যে, তৃণমূলের এই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাই সই-ইস্যুতে প্রথম স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করে। শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে এই গুরুতর বিষয়টি তাঁর কাছে আসার পরেই তিনি ঘটনার অন্তস্তলে পৌঁছাতে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইডি-কে (CID) তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। এমনকি তদন্তের স্বার্থে সিআইডি আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই ওই তৃণমূল বিধায়কদের বাড়িতে যাচ্ছেন বলেও মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ঠিক ১৫ মিনিটের মধ্যেই চরম অ্যাকশনে নামে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কালক্ষেপ না করে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, সই জাল বিতর্কে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই দুই বিধায়কের নাম আসার পরপরই দল যে কোনো রকম শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাস্ত করবে না, সেই কড়া বার্তাই দেওয়া হলো এই ঝোড়ো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। এই সই জাল-কাণ্ডের জল আগামী দিনে সিআইডি তদন্তে কতদূর গড়ায় এবং বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান কী হয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।
