পশ্চিমবঙ্গের বেকার ছেলে-মেয়েদের জন্য চালু করা যুবসাথী প্রকল্পের টাকা গত শনিবার থেকে আবেদনকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (Bank Account) ঢুকতে শুরু করেছে। এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ১৫০০ টাকা ইতিমধ্যেই ধাপে ধাপে আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের জন্য অফলাইনে বিভিন্ন ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন ফর্ম জমা নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই আবেদনগুলিই যাচাই করে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো হচ্ছে।
বাংলার যুবসাথী প্রকল্পে প্রায় রাজ্যের ৮৪ লক্ষ যুবক-যুবতী অফলাইন ও অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন। অফলাইন কিংবা অনলাইন—যে মাধ্যমেই আবেদন করা হোক না কেন, সমস্ত আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই ধাপে ধাপে টাকা পাঠাবে রাজ্য সরকার। তবে সূত্রের খবর, যারা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছেন, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আগে জমা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনেক আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে এবং তাঁদের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে সরকারের তরফ থেকে মেসেজও পাঠানো হচ্ছে।

তবে যারা অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছেন, তাঁদেরও চিন্তার কোনও কারণ নেই। তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও যুবসাথী প্রকল্পের টাকা জমা হবে। আসলে অনলাইনে আবেদনকারীদের তথ্য আগে থেকেই সিস্টেমে এন্ট্রি করা থাকে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসও আপলোড করা থাকে। ফলে আধিকারিকদের নতুন করে তথ্য এন্ট্রি করতে হচ্ছে না। শুধু যাচাই করে সব ঠিক থাকলে সরাসরি আবেদনকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে। অপরদিকে, যারা অফলাইনে আবেদন করেছেন তাঁদের তথ্য ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি সিস্টেমে এন্ট্রি করতে হচ্ছে। সেই কারণেই কিছুটা বেশি সময় লাগছে বলে জানা গিয়েছে। তবে যোগ্য সমস্ত আবেদনকারীই ধাপে ধাপে বাংলার যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাবেন, এমনটাই জানানো হয়েছে।
তবে বেকার ভাতা বা বাংলার যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্তও রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, যদি কোনও আবেদনকারী আগে থেকেই অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা নাও পেতে পারেন। এছাড়াও নির্ধারিত বয়সের মানদণ্ড পূরণ না করলে আবেদন বাতিল করা হতে পারে অথবা সাময়িকভাবে পেন্ডিং রাখা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্কলারশিপ ছাড়া যদি কোনও আবেদনকারী লক্ষ্মীর ভান্ডার বা কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি আবেদন করার সময় জমা দেওয়া ডকুমেন্টস, বিশেষ করে পরিচয়পত্রে কোনও ধরনের ত্রুটি থাকলেও আবেদন অনুমোদন পেতে দেরি হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

বাংলার যুবসাথী প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘বাংলার যুবসাথী’ নামে একটি অনলাইন পোর্টালও চালু করেছে। এই পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনকারীরা তাঁদের আবেদনের স্ট্যাটাস সহজেই জানতে পারবেন। স্ট্যাটাস জানার জন্য প্রথমে বাংলার যুবসাথী পোর্টালে গিয়ে Application Status অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর Check Status বাটনে ক্লিক করলেই আবেদনের বর্তমান স্থিতি দেখা যাবে।
তবে বর্তমানে অনেকেই স্ট্যাটাস চেক করতে গিয়ে স্ক্রিনে “Please Visit again” বা কয়েকদিন পরে চেষ্টা করার বার্তা দেখতে পাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, বর্তমানে বাংলার যুবসাথী প্রকল্পের অনলাইন পোর্টালে কিছু টেকনিক্যাল আপডেটের কাজ চলছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলে অনলাইনে বা অফলাইনে আবেদন করা সমস্ত আবেদনকারীই এই পোর্টালের মাধ্যমে নিজেদের আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
বাংলার যুবসাথী পোর্টাল স্ট্যাটাস চেক – Banglar Yuba Sathi Prakalpa Online Status Check Link:- Click Now
