বিধানসভা ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক ভিডিও। ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের ১৯ মিনিট ১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই ভিডিওর সূত্র ধরেই এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) এবং ১০০০ কোটি টাকার এক কথিত নির্বাচনী দুর্নীতির অভিযোগে সরব হলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের এমডি ৩৬০ নিউজ পোর্টাল) দেখা যাচ্ছে, হুমায়ূন কবীর ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর আলাপচারিতায় উঠে এসেছে যে মূল বিষয় গুলো —
ভিডিওতে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, “আপনাকে মুসলিমদের বোকা বানাতে হবে।” উত্তরে হুমায়ূনকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, “আমি মুসলিমদের বোকা বানানোর পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই ছেপে ফেলেছি। না বানালে ওদের (তৃণমূলের) কাছে চলে যাবে ভোট!”
ওই ভিডিওতে প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যত মুসলিম ভোট নিজের দিকে টানব, হিন্দু ভোট তত বেশি বিজেপির দিকে যাবে। কারণ হিন্দুরা তখন বুঝবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ক্ষমতায় ফিরছেন না।’
এমনকি বাবরি মসজিদ ইস্যুকেও তিনি রাজনৈতিক হাতিয়ার করার কথা বলেছেন। তাঁর সাফ কথা, “বাবর কী করেছে তাতে আমার কী এসে গেল? মসজিদটা ছিল, তাই মানুষের এত আবেগ!”
ভিডিওতে হুমায়ূনকে বলতে শোনা যায়, “যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে দিন। দিল্লির কোনও নেতাকে যদি কনফিডেন্স নিতে হয়, সেটাও করিয়ে দাও।”
এছাড়াও ওই ভাইরাল ভিডিওতে হুমায়ূনের দাবি আরও বেশি চমকপ্রদ। তিনি দাবি করেছেন, অন্তত ৭০-৮০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনে তিনি জয়লাভ করতে পারবেন। আর এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে তাঁকে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হবে বলে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
হুমায়ূনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩-৪ কোটি টাকা হিসেবে মোট ১০০০ কোটি টাকার একটি বিশাল নির্বাচনী তহবিলের প্রয়োজন। তাঁর দাবি, ভোটের পর যদি রাজ্যে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তিনি ‘কিংমেকার’ হয়ে বিজেপিকেই সমর্থন দেবেন।
হুমায়ূনের দাবি অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করানোর আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি মোহন যাদব নাকি তাঁকে নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এই গোটা ছকের বিষয়ে অবগত বলে ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে। হুমায়ূনের আরও দাবি, শুভেন্দু অধিকারী নাকি নিজেই স্বীকার করেছেন যে রাজ্যে বিজেপির পক্ষে ১০০-১২০টির বেশি আসন পাওয়া সম্ভব নয়, তাই তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ধস নামানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “এটি বিজেপির একটি ১০০০ কোটি টাকার নির্বাচনী কেলেঙ্কারি। বিজেপি মতুয়া, হিন্দু এবং মুসলিম সব পক্ষকেই বিভ্রান্ত করতে হুমায়ূন কবীরের মতো লোকেদের দিয়ে ‘বি’ ও ‘সি’ টিম নামিয়েছে।”
কুণাল ঘোষের কড়া প্রশ্ন, “ভিডিওতে যখন খোদ পিএমও-র নাম আসছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কোন আধিকারিক এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছেন? কেন তাঁদের জেরা করা হচ্ছে না? যেখানে ২০০ কোটি টাকা নগদে নেওয়ার কথা খোদ অভিযুক্তের মুখে শোনা যাচ্ছে, সেখানে ইডি (ED) কেন হাত গুটিয়ে বসে আছে?” তৃণমূলের দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যদিও এখনও পর্যন্ত হুমায়ূন কবিরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির তরফে কোনো রকম মন্তব্য সামনে আসেনি।
https://www.facebook.com/share/v/18a19o9viQ

