মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও যুদ্ধের আবহের মাঝেই ভারতের জন্য স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে আংশিকভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই বিশেষ অনুমতির পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রপথে পণ্য ও জ্বালানির অবাধ চলাচল বজায় রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই সংকটের সমাধানে যুদ্ধ নয়, বরং কূটনীতি ও আলোচনার (Dialogue and Diplomacy) ওপর জোর দিয়েছেন।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত-রাভানচি জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি শত্রুতামূলক আচরণ করছে, তাদের জন্য এই পথ নিরাপদ থাকবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধের প্রভাবে এই পথ দিয়ে তেল পরিবহন ২০ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশ এর নিচে নেমে এলেও ভারতের জন্য খুশির খবর।
এদিকে, সংঘাতের আঁচ পৌঁছেছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে। কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দুবাই শহরের কেন্দ্রেও আবার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭টি ড্রোন শনাক্ত করে।
এই অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১৮ ও ১৯ মার্চ লন্ডনে জরুরি বৈঠকে বসছে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO)। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৬টি দেশের মধ্যে হতে চলেছে এই আলোচনা। একদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোস্তফা খামেনি যখন শত্রুশিবির থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তখন ভারত নিজেদের বানিজ্য ও স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। এরকম চলমান পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য এটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এই পরিস্থিতির মাঝেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক মন্তব্য। গত বৃহস্পতিবার রাতে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পথেই হাঁটবে তেহরান। খামেনির বক্তব্য, “হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার হাতিয়ার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।” উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। খামেনির এই চরম হুঁশিয়ারি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যার প্রেক্ষিতেই মোদি-পেজেশকিয়ান ফোনালাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন